খালেদা জিয়া ব্যবসায়ীদের কথা শুনতেন, সংলাপে বিশ্বাসী ছিলেন: আইসিসিবির স্মরণসভায় শীর্ষ ব্যবসায়ীরা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন ব্যবসাবান্ধব ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বেসরকারি খাতের সঙ্গে সংলাপে বিশ্বাসী ছিলেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কথা শুনতেন।

গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ১৭টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

শীর্ষ ব্যবসায়ীদের চোখে খালেদা জিয়া
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছিল দৃঢ় নেতৃত্ব, অদম্য সাহস ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের ভিত্তিতে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে বহুদূর এগিয়ে যায়, যা দারিদ্র্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, “খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে ভূমিকা রেখেছেন, তা অবিস্মরণীয়। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই ব্যবসায়ীরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে।”

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, “তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগ অপরিহার্য। তাই তিনি ব্যবসার সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং সংলাপে বিশ্বাসী ছিলেন।”

ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার বলেন, “তাঁর অন্যতম বড় গুণ ছিল, তিনি শুনতেন বেশি, বলতেন কম।”

বিএনপি নেতাদের স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতির যে সূচনা করেছিলেন, খালেদা জিয়া সেই পতাকাই আজীবন বয়ে নিয়ে গেছেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দেশবাসীর প্রতি তিনি যে ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন—‘প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়; আসুন আমরা সবাই মিলে ভালোবাসার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করি’—সেই একটি বার্তাই পুরো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছিল।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “গণতন্ত্র ছাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে না—এই বিশ্বাস থেকে তিনি ব্যক্তি খাতের প্রসারে শহীদ জিয়ার মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।”

বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে অবদান
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদেই দেশের পোশাক খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সম্প্রসারণে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ওষুধ শিল্প মালিকদের সংগঠন বিএপিআইয়ের সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বেসরকারি শিল্পের বিকাশে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।