মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য কীর্তিই এ কে খন্দকারকে বাঁচিয়ে রাখবে: স্মরণসভায় বক্তারা

মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান, বীরউত্তম এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের জীবন ও বীরত্বগাথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাদুঘর মিলনায়তনে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, সংগীত ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে এই কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

কীর্তিমানদের স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে এ কে খন্দকারের অসামান্য কীর্তিই তাঁকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে। তিনি কেবল একজন দক্ষ সামরিক কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং একাধারে দূরদর্শী, বিচক্ষণ ও অত্যন্ত মানবিক একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।”

সংগীত ও তথ্যচিত্রে স্মরণ
রবীন্দ্রসংগীতের পবিত্র সুরের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শিল্পী মহুয়া মঞ্জুরী সুনন্দা গেয়ে শোনান, ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।/তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।’ এরপর মুক্তিযুদ্ধে এ কে খন্দকারের ভূমিকা এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গঠন ও অবদানের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।

সহযোদ্ধা ও অনুজদের চোখে এ কে খন্দকার
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, “যাদের অসীম সাহসিকতায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, এ কে খন্দকার তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য।”

সাবেক সচিব ও মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, “একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনায় এ কে খন্দকারের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।”

সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক বলেন, “তাঁর রণকৌশল ও বিচক্ষণতা ছিল অতুলনীয়।”

বাবার স্মৃতিতে কন্যা
এ কে খন্দকারের মেয়ে মাতুনা খন্দকার মোস্তফা তাঁর বাবার গভীর দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করে বলেন, “আব্বা এদেশের মানুষকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন। মানুষের কল্যাণের কথাই ভাবতেন সব সময়।”

বিমানবাহিনীর শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষে এয়ার কমডোর হাসান মাহমুদ জানান, এ কে খন্দকারের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে সম্প্রতি ঢাকার একটি ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীরউত্তম এ কে খন্দকার’।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গ্যালারি গাইড ইয়াসমিন লিসা। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে এই মহান বীরের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।