ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা খোন্দকার মুহম্মদ ইকবালের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১২টি ফ্ল্যাট এবং ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে ইকবালের তিনটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, খোন্দকার মুহম্মদ ইকবাল বিসিআইসিতে কর্মরত থাকাকালে সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির অসংখ্য ভুয়া ও জাল বিল-ভাউচার তৈরি করেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি মোট ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
তদন্তে দেখা গেছে, আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে তিনি নিজের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার নামে ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি, ৩৯২ অযুতাংশ জমির ১১টি শেয়ার এবং ১২টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি। এসব স্থাবর সম্পত্তির দালিলিক মূল্য প্রায় ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য আরও কয়েকগুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালতে সিআইডির আবেদনে বলা হয়, মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ দ্রুত জব্দ করা প্রয়োজন। কারণ, অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই তিনি সম্পদগুলো হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। শুনানি শেষে আদালত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আদেশ প্রদান করেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মানিলন্ডারিংসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধারায় ইকবালের বিরুদ্ধে এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
-লামিয়া আক্তার










