বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠির কন্যা ও অভিনেত্রী আথিয়া শেঠির নাম ব্যবহার করে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, আথিয়ার স্বাক্ষর নকল করে একাধিক ভুয়া চুক্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত হিসেবে ধরা পড়েছেন যশ নাগরকোটি সংস্থার কর্ণধার ঋষভ সুরেকা।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঋষভ সুরেকা আথিয়া শেঠির সহকারী টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তার দাবি ছিল একটি স্বর্ণের দোকানের বিজ্ঞাপনের জন্য আথিয়া শেঠিকে চুক্তির মুখ হিসেবে নেওয়া হবে। সেই চুক্তির অর্থ প্রায় ৪০ লাখ রুপি। তবে আলোচনাটি চূড়ান্ত হয়নি। অভিযোগ অনুসারে, আথিয়ার সম্মতি ছাড়াই তার স্বাক্ষর নকল করে চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন ঋষভ।
এখানেই শেষ নয়। আথিয়া শেঠি ও তাঁর স্বামী, ভারতীয় ক্রিকেটার কেএল রাহুলের নাম ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া খাওয়া-দাওয়ার বিলও তৈরি করা হয়েছিল। এই ভুয়া নথির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ঋষভ সুরেকা অভিনেতা আরশাদ ওয়ারসীর নামেও ভুয়া ই-মেইল আইডি তৈরি করেছিলেন। এই ই-মেইল ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ২০২৩ সালে ঋষভ একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় যোগ দেন। যোগদানের কিছুদিন পর মায়ের চিকিৎসার অজুহাতে তিনি ১৫ লাখ রুপি ঋণ নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর একাধিকবার অর্থ তছরুপের চেষ্টা করতে গিয়ে সংস্থার ভেতরেই ধরা পড়েন তিনি। ২০২৪ সালে ঋষভ দাবি করেছিলেন, একটি বিজ্ঞাপনের জন্য অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে নেওয়া হবে এবং এজন্য প্রয়োজন ৬২ লাখ রুপি। পরবর্তীতে সেই দাবির সত্যতাও প্রশ্নের মুখে আসে।
এই ঘটনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ ঋষভ সুরেকা ও তার সংস্থার আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগের ধরন, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে। শোরগোল সৃষ্টি করা এই কেলেঙ্কারিটি বলিউড এবং কর্পোরেট জগতের মধ্যেই আলোড়ন তুলেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, এর সঙ্গে আরও অনেকের সম্পৃক্ততা থাকলেও তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসন্ন সময়ে এই প্রতারণার প্রকৃত পরিধি প্রকাশ পেতে পারে।
বিথী রানী মণ্ডল/










