কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে লটারীতে নির্বাচিত হয়েও প্রান্তিক কৃষকরা খাদ্য গুদামে টাকা ছাড়া ধান দিতে পারছেনা। এতে প্রকৃত কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাই ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।
অভিযোগ ওঠেছে, স্থানীয় খাদ্য অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা,খাদ্য উপ-পরির্দক ও গুদাম কর্মকতার যোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি কৃষককে নূন্যতম এক হাজার টাকার বিনিময়ে কৌশলে ধান বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। মূলত: যারা সিন্ডিকেটের লোকজনকে ম্যানেজ করতে পেরেছে,তারাই খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারছেন। আর যারা ওই সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন,তারা গুদামে ধান দিতে পারেনি। এ কারণে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকদের ধান দিতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের কৃষক মোবারক হোসেন জানান, আমি লটারীতে নাম পেয়েছি, কিন্তু আমাকে ১ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলছে তুমিতো সহজে গুদামে ধান ঠিকমতো দিতে পারবা না। তাই ভোটার আইডি কার্ড, ছবি, ফর্মে স্বাক্ষর খাদ্য অফিসে গিয়ে দিয়ে এসো। পরে আমরা ব্যবস্থা নেবো। কিন্তু তিনি জানেন না তার নামে কত টন ধান গোদামে নিবে।
উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের জিনারী ওয়ার্ডের কৃষক মোবারক মিয়া জানান, আমি লটারীতে নাম পেয়েছি শুনে খাদ্য কর্মকর্তার ( মহিলা) কাছে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,ধানতো আমরা নেই না,খাদ্য গুদাম নেয়। খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার নম্বর চাইলে দিবে বলে এখনো দেয়নি। তাই আমি এখনো ধান দিতে পারিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাদিক ধানের স্টক ব্যবসায়ীরা জানান, হোসেনপুর খাদ্য গোদামের লোকজন মাঠ পর্যায়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা সহজ সরল কৃষকদের বিভিন্ন প্রলোভনে কিংবা এক হাজার টাকা দিয়ে শর্তসাপেক্ষে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেন। পরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্ন মানের মিশ্রিত ধান নিয়ে গুদামে প্রবেশ করান ওইসব অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। সিন্ডিকেট মাধ্যমে ধান সংগ্রহের কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যম কর্মীরা খাদ্য গুদাম অফিসে পরপর তিন দিন গিয়েও দেখা পায়া যায়নি অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তাকে। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে নানা তালবাহানায় ওই চিহ্নিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের প্রসঙ্গটি এরিয়ে যান তিনি।
অতঃপর প্রহেলা জানুয়ারী বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের অফিসে গিয়ে তার কাছে ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে উপ খাদ্য পরিশর্দক উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে তথ্য আধিকার আইনে তথ্য চাইতে হবে বলেন তিনি।নইলে তথ্য দেয়া হবে না বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল ব্যবহার করতে থাকেন। এসময় তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে খাদ্য কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারও অশোভন আচরণ করেন। এসময় সাংবাদিকরা বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির তথ্য প্রমাণ দেখাতে চাইলে তিনি আরো রাগান্বিত কন্ঠে কোনো জবাব না দিয়ে কানে ফোন নিয়ে ব্যস্থ থাকেন, পরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে সাংবাদিকরা চলে আসতে বাধ্য হন।
এ ব্যাপারে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত পূর্বক খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
মোঃ শামছুল হক,
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি









