রংপুর অঞ্চলে টানা কয়েকদিনের হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা বোরো চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষা করা এখন কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে চারা নষ্ট হয়ে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষি।
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা রবি ফসল—সরিষা, আলু ও গম উত্তোলনের পর বোরো আবাদের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কাউনিয়া উপজেলার নিজদপা গ্রামের চাষি আব্দুল মোতালেব ও কালাম মিয়া জানান, তাদের বীজতলার বয়স ২৫-৩০ দিন হয়েছে। আরও এক সপ্তাহ এমন বৈরী আবহাওয়া থাকলে চারা লালচে হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন তারা।
পীরগাছা ও রংপুর মহানগরীর চিলমন এলাকার কৃষকরা জানান, বীজতলা নষ্ট হলে চারার দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাই চারা রক্ষায় তারা বাড়তি খরচ করে শুকনো বীজতলায় পলিথিন ব্যবহার করছেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের পাঁচ জেলা (রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) মিলিয়ে ৫ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই আবাদের জন্য ২৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, কৃষকরা এখন বীজতলা রক্ষায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চারা সুস্থ রাখতে অনেকে রাতের বেলা বীজতলা পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন, আবার সকালে পানি বের করে দিচ্ছেন। অনেকেই কুয়াশার হাত থেকে বাঁচাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, বৈরী আবহাওয়ায় চারা রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে সালফারযুক্ত ওষুধ, জিপসাম ও ইউরিয়া সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক পরিচর্যা করলে কুয়াশাজনিত ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”