সাবরিনা রিমি
কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের রহস্যময় জগতে নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় এমন এক ধরনের আলোককণা বা ফোটনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা একই সময়ে ৩৭টি ভিন্ন মাত্রা বা ডাইমেনশনে অবস্থান করতে পারে। এই আবিষ্কার কোয়ান্টাম জগতের অদ্ভুত ও অপ্রচলিত বৈশিষ্ট্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি ভিত্তি করেছে ১৯৮৯ সালে প্রস্তাবিত জিএইচজেড (GHZ) প্যারাডক্সের ওপর। এই প্যারাডক্স কোয়ান্টাম নন-লোকালিটির ধারণাকে ব্যাখ্যা করে, যেখানে দূরে অবস্থান করা কণাগুলোও একে অপরের অবস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে— যা ক্ল্যাসিক্যাল বা প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ঝেংহাও লিউ ও তার সহকর্মীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল— এই প্যারাডক্স কতটা চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, তা পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা। পরীক্ষায় তারা এমন একটি ফোটন তৈরি করতে সক্ষম হন, যার অস্তিত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজন হয় ৩৭টি স্বতন্ত্র রেফারেন্স মাত্রা।
সাধারণভাবে মানুষ তিনটি স্থানিক মাত্রা ও সময় মিলিয়ে চার মাত্রার বাস্তবতায় বসবাস করে। কিন্তু গবেষণায় ব্যবহৃত এই কোয়ান্টাম ফোটনের ক্ষেত্রে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। গবেষক ঝেংহাও লিউ বলেন, কোয়ান্টাম মেকানিকস আবিষ্কারের এক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আমরা হয়তো এর সম্ভাবনার খুব সামান্য অংশই বুঝতে পেরেছি।
এই পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীদের অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রিত আলোর উৎস ব্যবহার করতে হয়েছে। গবেষকদের আশা, উচ্চমাত্রার কোয়ান্টাম সিস্টেম ভবিষ্যতে অতিদ্রুত কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং আরও নিরাপদ ও কার্যকর যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: পপুলার মেকানিকস










