মৌসুমের দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঝেঁকে বসেছে শীত। এরই সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৮ জন। মৌসুমের শুরুতেই রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়ায় দেখা দিয়েছে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের প্রকোপ। শীতজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। হাসপাতালে আসা শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুও রয়েছে।
শিশু বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে ৮০ শয্যার বিপরীতে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি ছিল ২৪১ জন। গতকালই ভর্তি হয়েছে ১৪৪ শিশু। ফলে একটি শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, তৃতীয় তলার ৯ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যার বিপরীতে শিশু ভর্তি আছে ১৮১ জন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে শিশু ভর্তি হয়েছে ৮৪ জন। ফলে শয্যাগুলোতে তিনজন পর্যন্ত রোগী রাখতে হচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া রোগীদের আলাদা রাখার জন্য ১০টি শয্যা বরাদ্দ রয়েছে। এর বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ২০ জন।
ওই ওয়ার্ডের ইনচার্জ শাহনাজ পারভিন বলেন, ‘শীতজনিত বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুভর্তির চাপ বাড়ছে। গত দু’দিনে এই ওয়ার্ডে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। শয্যা সংকটসহ এত শিশুর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ. ন. ম তানভীর চৌধুরী বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এখন শিশুরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে বেশি করে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে ক’দিন ধরে বিশেষ করে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আমরা সীমিত জনবল দিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন শিশুর শীত না লাগে।
সানা










