দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা দেখা দেওয়ায় মানুষের পাশাপাশি মৌমাছির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে। শীত মৌসুমে শর্ষের ফুল থেকেই মূলত মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। কিন্তু কুয়াশার কারণে ফুল ভেজা থাকায় মৌমাছি বাইরে বের হতে পারছে না। এতে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিপাকে পড়েছেন মধুচাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় দেশে সবচেয়ে বেশি শর্ষে উৎপাদন হয়। চলন বিল এলাকাজুড়ে এবার প্রায় ২৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে শর্ষে চাষ হয়েছে। এসব ক্ষেত্র থেকেই মধু সংগ্রহ করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উল্লাপাড়ায় আসে। চলতি মৌসুমে ১২৭টি প্রতিষ্ঠান মধু সংগ্রহে যুক্ত থাকলেও কুয়াশার কারণে প্রত্যাশিত উৎপাদন হচ্ছে না।
উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের আলী গ্রামে আশার আলো ফুড প্রোডাক্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৫০টি বাক্স মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করছে। প্রতিটি বাক্সে ২০ থেকে ৫০ হাজার মৌমাছি থাকে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুর রশিদ জানান, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে মৌচাষের সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে অন্যদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে সপ্তাহে প্রায় ১০ মণ মধু সংগ্রহ করা যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন কুয়াশার কারণে মৌমাছি বের না হওয়ায় মধু সংগ্রহ বন্ধের মুখে। এমনকি মৌমাছির বংশবৃদ্ধিও থেমে যাচ্ছে। এতে মধু উৎপাদনের পাশাপাশি মৌমাছি বিক্রিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রতি বাক্সে প্রায় ২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সাধারণত একটি বাক্স মৌমাছি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হলেও কুয়াশার কারণে বংশবৃদ্ধি বন্ধ থাকায় চাষিরা দ্বিমুখী ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে মধুচাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকে। উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মৌচাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চাষিরা জানান, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শর্ষের ফুলের মধু সংগ্রহের সময় হলেও এবার ঘন কুয়াশা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সিরাজগঞ্জে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিরাজ করতে পারে। এতে দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে।










