নাসার পুরোনো মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়ারসহ একাধিক স্যাটেলাইটের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে মঙ্গল গ্রহে পানির প্রভাবে তৈরি গুহার সন্ধান পেয়েছে চীনের একদল বিজ্ঞানী। গবেষণায় বলা হয়েছে, মঙ্গল গ্রহের হেব্রাস ভ্যালিস (Hebras Vallis) অঞ্চলে অন্তত আটটি গুহা শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো আগ্নেয়গিরির লাভা নয়, বরং পানির প্রবাহের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী, অন্য কোনো গ্রহে পানির কারণে তৈরি ‘কার্স্ট গুহা’ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
এর আগে মঙ্গল গ্রহে যেসব গুহার সন্ধান পাওয়া গেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও লাভা প্রবাহের মাধ্যমে তৈরি। তবে নতুন শনাক্ত গুহাগুলোর গঠন এসব গুহা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুহাগুলোর মুখ গোলাকার ও গভীর এবং সাধারণ ক্রেটারের মতো চারপাশে উঁচু কিনারা বা পাথরের ধ্বংসাবশেষ নেই। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পৃথিবীর কার্স্ট টপোগ্রাফির সঙ্গে মিল রয়েছে, যেখানে পানির প্রভাবে দ্রবণীয় শিলা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে গুহার সৃষ্টি হয়।
নাসার থার্মাল এমিশন স্পেকট্রোমিটার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, হেব্রাস ভ্যালিস অঞ্চলের শিলায় কার্বনেট ও সালফেটের উপস্থিতি রয়েছে। এসব খনিজ পানির সংস্পর্শে সহজেই দ্রবীভূত হয়, যা পানির প্রবাহে গুহা তৈরির তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গুহাগুলোর ভেতরে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ক্ষতিকর মহাজাগতিক বিকিরণ থেকেও সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। ফলে কোটি কোটি বছর আগের কোনো অণুজীবের জীবাশ্ম বা প্রাণের চিহ্ন সেখানে সংরক্ষিত থাকতে পারে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে পাঠানো রোভার কিংবা মানব অভিযানের জন্য এসব গুহা গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: আর্থস্কাই ডট অর্গ (EarthSky.org)
সাবরিনা রিমি/










