সিইএস ২০২৬-এ নেই ট্রাম্প পরিবারের ‘সোনালি স্মার্টফোন’, প্রতিশ্রুতি ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘সিইএস ২০২৬’-এ যখন শীর্ষ প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলো তাদের সর্বাধুনিক ডিভাইস উন্মোচনে ব্যস্ত, তখন একটি অনুপস্থিতি দর্শক ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের বহুল আলোচিত ‘সোনালি রঙের স্মার্টফোন’ লাস ভেগাসের এই প্রযুক্তি মেলায় দেখা যায়নি। এক বছর আগে বাজারে আনার ঘোষণা এলেও ট্রাম্প মোবাইলের এই ফোনটি এখনো বাস্তব রূপ পায়নি।

২০২৫ সালের জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ট্রাম্প মোবাইল’ ঘোষণা দিয়েছিল, তারা অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে একটি ‘আসল আমেরিকান’ স্মার্টফোন বাজারে আনবে। ৫০০ ডলার দামের ‘টি১’ (T1) মডেলটি একই বছরের আগস্ট বা সেপ্টেম্বরেই বাজারে আসার কথা থাকলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি পার হতে চললেও ফোনটির কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনে ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেখা যুক্ত করা যতটা সহজ, বাস্তবে সেই মানের উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ততটাই কঠিন। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ফোনের দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটি তাদের অবস্থান বদলে ‘আমেরিকান ডিজাইন’ শব্দচয়নে জোর দেয়। তবে ফোনটির উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য এখনো দেয়নি তারা।

ফোনটির বাজারে দেখা না মিললেও গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প মোবাইল এখনো ফোনটির জন্য ১০০ ডলার করে অগ্রিম নিচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে ডেলিভারির সময় হিসেবে শুধু ‘এই বছরের শেষদিকে’ লেখা রয়েছে, তবে সেটি কোন বছর তা স্পষ্ট নয়।

ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (আইডিসি)-এর বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেন, স্মার্টফোন উৎপাদন একটি জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। তাঁর মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজার ডলারের নিচে ফোন উৎপাদনের মতো পর্যাপ্ত সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিক সুবিধা কার্যত নেই।

ফোন বিলম্বের কারণ হিসেবে ট্রাম্প মোবাইল কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৪৩ দিনব্যাপী মার্কিন ফেডারেল গভর্নমেন্ট শাটডাউনকে দায়ী করেছে। তবে কোম্পানির সার্ভিস প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, জানুয়ারির শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসতে পারে।

এদিকে ফোন বাজারে না এলেও ট্রাম্প মোবাইল তাদের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সেবা চালু রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতীক হিসেবে মাসিক ৪৭ দশমিক ৪৫ ডলারে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত ফোন পেতে আগ্রহীদের জন্য নতুন ডিভাইসের বদলে আইফোন ও স্যামসাংয়ের রিফারবিশড ফোন ৩৭০ থেকে ৬৩০ ডলারে বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষক জেরোনিমোর মতে, নতুন স্মার্টফোন তৈরির ঝুঁকি ও ব্যয় এড়িয়ে পুরোনো ফোন সংস্কার করে বিক্রি করাই আপাতত ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ কৌশল হয়ে উঠেছে।

সূত্র: টেকজুম