আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী ইশতেহার কেবল প্রচারণার মাধ্যম নয়, বরং এটি জনগণের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অলিখিত চুক্তি।
বদিউল আলম মজুমদার জোর দিয়ে বলেছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদে যে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা প্রতিটি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে থাকতে হবে। বিশেষ করে: সংবিধানে গণভোটের বিধান বা বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলো ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকবে, তা ইশতেহারেই পরিষ্কার করা জরুরি ও ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অমান্য করলে যেন নাগরিকরা প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা উচিত।
বিগত নির্বাচনগুলোতে জয়ী প্রার্থীদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ক্ষমতার সঙ্গে এক অদ্ভুত ‘জাদুর কাঠি’ যুক্ত হয়ে গেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে দলগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ইশতেহারে থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা ভেতরে গণতান্ত্রিক না হলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কিছু মূল বিষয় তুলে ধরেন:
১. জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন।
২. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রযন্ত্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক লড়াই শুরু করা।
৪. চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গঠন।
৫. মেধাভিত্তিক সমাজ, নারী ক্ষমতায়ন ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা।
৬. বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থান।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের নির্বাহী কমিটির সদস্য একরাম হোসেন ও দিলিপ কুমার সরকার।
-এম. এইচ. মামুন










