রাজধানীর আকাশে আজ সকাল থেকেই ধোঁয়াশার চাদর। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ শনিবার হলেও, ঢাকার বাতাসের মানে কোনো স্বস্তি নেই। গত ডিসেম্বর মাসজুড়ে ঢাকাবাসী একদিনের জন্যও নির্মল বাতাস পায়নি, আর নতুন বছরের শুরু থেকে এই দূষণ যেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার-এর তথ্যমতে, আজ সকাল ১০:১৫ মিনিটে ঢাকার বায়ুমান সূচক (AQI) ছিল ২৫৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। দূষিত নগরীর তালিকায় আজ বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে ঢাকার তিনটি নির্দিষ্ট এলাকায়, যেখানে দূষণের মাত্রা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে (যাকে আবহাওয়া বিজ্ঞানে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলা হয়):
-
দক্ষিণ পল্লবী: ৩৫৪ (সর্বোচ্চ দূষিত)
-
মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং: ৩১২
-
গুলশান (বে’জ এইজ ওয়াটার): ৩১০
এছাড়াও কল্যাণপুর, শান্তা ফোরাম এবং গোড়ান এলাকার বাতাসও বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে?
শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই ঢাকা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রাখছে। সরকারের নানা উদ্যোগ ও প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের ইটভাটার কারণে শুধু ঢাকা নয়, এখন সারা দেশের বাতাসই বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
এই বিষাক্ত বাতাস থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে
আইকিউএয়ার এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি:
মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার: সাধারণ কাপড়ের মাস্ক এই ক্ষুদ্র ধূলিকণা ঠেকাতে পারে না। বাইরে বের হলে অবশ্যই N95 বা KN95 মাস্ক ব্যবহার করুন।
বাইরে ব্যায়াম পরিহার: দূষিত বাতাসে দৌড়ানো বা ব্যায়াম করা শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করে। এই সময়ে ঘরের ভেতরেই ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।
জানালা বন্ধ রাখা: বাইরের দূষিত বাতাস ঘরে ঢোকা আটকাতে জানালা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখুন।
তথ্যসূত্রঃ আইকিউএয়ার
এম. এইচ. মামুন










