ইরানে বিক্ষোভ: ট্রাম্পের লকড অ্যান্ড লোডেড হুঁশিয়ারি, তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবাদকারীদের সহায়তায় প্রস্তুতএমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া এই অস্থিরতায় কয়েক দিনে একাধিক প্রাণহানি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, “আমরা লকড অ্যান্ড লোডেড এবং প্রস্তুত।তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পরই তার এই মন্তব্য এলো।

ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করবে। এদিকে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমিরসাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবৈধ হুমকি সম্ভাব্য উত্তেজনার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র। রাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে বিপ্লবী গার্ডসঘনিষ্ঠ বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর দুই সদস্যও রয়েছেন।

ইরানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলক সংযত সুরে কথা বলেছেন। তিনি সংকটের জন্য সরকারি ব্যর্থতা স্বীকার করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংলাপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগনিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।

-এম এম সি