জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভ্যাট দিবস এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ভ্যাট সপ্তাহ পালন করে। এ বছর ভ্যাট দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “সময়মতো নিবন্ধন নিন, সঠিকভাবে ভ্যাট দিন।” এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১০ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ নিবন্ধন কার্যক্রম চালানো হয়। এতে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে ১ লাখ নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ নিয়মিত জরিপ ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে ডিসেম্বর মাসে মোট ১ লাখ ৩১ হাজার অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুন ভ্যাট নিবন্ধন দেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজারে।
এনবিআরের তথ্যমতে, শুল্ক, ভ্যাট ও আয়করের মধ্যে ভ্যাট থেকেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়। গত বছর মোট রাজস্বের প্রায় ৩৮ শতাংশ এসেছে ভ্যাট খাত থেকে। ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ খাতের রাজস্ব আরও বাড়ানো সম্ভব। সে লক্ষ্যেই সরকার ভ্যাট আইন সংশোধন করে বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকার পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকার বেশি হলেই ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে।
ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ ও কার্যকর করতে এনবিআর অনলাইনে নিবন্ধন, সংগৃহীত ভ্যাট সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা, ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই রিটার্ন দাখিল এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত পরিশোধিত ভ্যাট ব্যাংক হিসাবে ফেরতের ব্যবস্থা চালু করেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ভ্যাট রিটার্ন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আধুনিক ও অনলাইনভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দেশের ভোক্তা, ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
আফরিনা সুলতানা/










