ডুমুরিয়ায় দিনমজুরদের কর্মসন্ধানের হাট

খুলনার ডুমুরিয়ায় শ্রমজীবী মানুষের হাট।।ছবি: সমকাল

ঘন কুয়াশার আড়াল ভেদ করে ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পাখির ডাক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। এমন শীতল সকালে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে খুলনা–সাতক্ষীরা মহাসড়কসংলগ্ন ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের কালীবাড়ি মোড়ে জড়ো হন বহু মানুষ। কেউ আসেন নিজের শ্রম বিক্রি করতে, কেউ বা সেই শ্রম কিনতে। প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার এখানে বসে শ্রমজীবী মানুষের এই অঘোষিত হাট।

কর্মহীন মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে এসে দিনের বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শ্রম বিক্রির চুক্তি করেন। দরকষাকষির মাধ্যমে ঠিক হয় মজুরি। কৃষিকাজে নিয়োজিত হলে তাদের বলা হয় কৃষান বা জোন, আর অন্য কাজে নিয়োগ পেলে পরিচিত হন শ্রমিক বা দিনমজুর হিসেবে। সাধারণত একদিনের কাজের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

স্থানীয়দের মতে, শীত মৌসুমে অনেক এলাকার মানুষ নিজ গ্রামে কাজ না পেয়ে বাড়তি আয়ের আশায় এই হাটে ছুটে আসেন। ১৮ বছর বয়সি তরুণ থেকে শুরু করে ৬৮ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত নানা বয়সের মানুষ এখানে শ্রম বিক্রি করেন। বর্তমানে ডুমুরিয়ায় আমন ধান কাটা, সবজি বাজারজাতকরণ, বোরো চাষ, চিংড়ি ঘেরের বাঁধ মেরামত ও ঘের প্রস্তুতির মতো কাজের মৌসুম চলায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে।

হাট ঘুরে দেখা যায়, এখানে আসা শ্রমজীবীদের বেশিরভাগই দরিদ্র ও ছিন্নমূল। তারা সাতক্ষীরার তালা, শ্যামনগর, আশাশুনি এবং খুলনার বাটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসেছেন। এমনকি উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা থেকেও অনেকে এখানে কাজের খোঁজে আসেন। কেউ এক সপ্তাহ, কেউ পনেরো দিন, আবার কেউ মাসব্যাপী কাজের চুক্তি করছেন।

শ্রমিক নিয়োগ করতে আসা স্থানীয়দের ভাষ্য, ডুমুরিয়ায় সারা বছরই কোনো না কোনো কাজ থাকায় শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমজীবী মানুষ এখানে এলে সাধারণত কাজ পেতে সমস্যা হয় না।

কয়রা, পাইকগাছাসহ আশপাশের এলাকার শ্রমিকরা জানান, চলতি মৌসুমে নিজ এলাকায় কাজ না থাকায় তারা নিয়মিত ডুমুরিয়ায় আসেন। এখানে শ্রম বিক্রি করে যে আয় হয়, তাতেই তাদের সংসার চলে। শ্রমিকদের কেউ বলেন, পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতেই তারা এই এলাকায় কাজ করতে আসেন। বর্তমানে দৈনিক মজুরি সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়, পাশাপাশি নিয়োগকর্তারা তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থাও করে থাকেন।

আফরিনা  সুলতানা/