“আমার আব্বুরে ক্যাডায় যেন মাইরা লাইছে। আমার আব্বু আর আইবো না, আমারে কোলে নেব না। যারা আমার আব্বুকে মারছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”— বাবার লাশের অপেক্ষায় বাড়ির উঠানে বসে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এভাবেই আহাজারি করছিল পাঁচ বছরের শিশু আয়শা আক্তার।
এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের। নিখোঁজের ১২ দিন পর সোমবার (১২ জানুয়ারি) অটোরিকশাচালক মো. আলাউদ্দিনের (২৮) মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।
যা ঘটেছিল
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন আলাউদ্দিন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ৪ জানুয়ারি দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আলাউদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার।
অবশেষে, নিখোঁজের ১২ দিন পর সোমবার সকালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন হিরাপুর এলাকায় বুড়ি নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শোকে স্তব্ধ পরিবার
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিহত আলাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুই বছরের শিশু আদনানকে কোলে নিয়ে স্ত্রী রাজিয়া আক্তারের গগনবিদারী কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পাশে বসে কাঁদছেন আলাউদ্দিনের বৃদ্ধ মা ছোটনা বেগম ও শোকে স্তব্ধ বাবা সুলতান আহমেদ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা বলেন, “এই ছেলেটাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। অটোরিকশা চালিয়ে সে তার স্ত্রী-সন্তান আর আমাদের খরচ চালাত। এখন আমার তিনটা অবুঝ নাতি-নাতনিকে কে দেখবে?”
নিহতের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার বলেন, “আমার স্বামীর শরীরে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাত নেই। শিয়াল-কুকুরে আমার স্বামীর চোখ-কান ছিঁড়ে ফেলেছে। কারা এত নির্দয়ভাবে আমার স্বামীকে মারল? এখন এই তিনটা সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? যারা আমার স্বামীকে এভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “নিখোঁজের ১২ দিন পর আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
মোঃ আশরাফুল আলম | উপ-সম্পাদক










