আসন্ন রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পটুয়াখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরপিসিএল-নরিনকো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু রাখা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কয়লা সরবরাহকারী চূড়ান্ত না হওয়ায় কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সংকট কাটাতে এখন মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কয়লা ধার করে কেন্দ্রটি চালানোর তোড়জোড় চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরপিসিএল-এর এই কেন্দ্রের জন্য কয়লা সরবরাহে চারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রতিবারই কাজ পায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ইয়াংথাই’। অভিযোগ রয়েছে, আরপিসিএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষা না হওয়ায় বারবারই এই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ এখনো কোনো সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে না পারায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠির মাধ্যমে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো— মাতারবাড়ী (সিপিজিসিবিএল) কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে কয়লা ধার নেওয়া। বর্তমানে মাতারবাড়ীতে ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি কয়লা মজুত রয়েছে। সেই কয়লা ব্যবহার করে আরপিসিএল তাদের উৎপাদন সচল রাখতে চায় এবং পরবর্তীতে কয়লার মূল্য পরিশোধ করবে।
চিঠিতে উল্লিখিত অন্য দুটি বিকল্প হলো: ১. সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইন্দোনেশিয়ার খনি থেকে সরাসরি কয়লা সংগ্রহ। ২. সীমিত দরপত্র পদ্ধতির (এলটিএম) মাধ্যমে দ্রুত কয়লা আমদানির উদ্যোগ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন রমজানে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পেতে সব কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র সচল রাখতে হবে, অন্যথায় লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হবে না। তবে পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, তারা সরাসরি কয়লা ধারের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেননি। তিনি বলেন, “নিজেদের কয়লার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। তবে ইয়াংথাই একক বিডার হওয়ায় দরপত্র পুনরায় আহ্বান করা হয়েছে, যা নিয়ে কাজ চলছে।”
পটুয়াখালীর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট গত ১৯ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ইউনিট ১ এপ্রিল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বর্তমানে যে পরিমাণ কয়লা মজুত আছে, তা দিয়ে চলতি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত একটি ইউনিট চালানো সম্ভব। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন (সিওডি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি কয়লা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধের কথা বলা হলেও আরপিসিএল-এর এই সংকট প্রমাণ করে যে, সিদ্ধান্তহীনতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো ঝুঁকির মুখে। দ্রুত কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে পারে দেশ।
-এম. এইচ. মামুন










