নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে ‘জুনিয়র বৃত্তি’র সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সারা দেশে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার থেকে বেড়ে ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৯ বছর পর বৃত্তির হার ও সংখ্যা পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাউশির পক্ষ থেকে পাঠানো এই খসড়া প্রস্তাবটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। নীতিগত অনুমোদন শেষে এটি চূড়ান্ত বাজেট বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে।
কেন এই উদ্যোগ
মাউশির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর থেকে গত ৯ বছর বৃত্তির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শিক্ষার্থীদের বর্তমান ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথ মসৃণ করতেই এই আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
মাউশির বর্তমান মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান জানান, “শিক্ষার্থীদের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুতই এটি কার্যকর করা হবে।”
বৃত্তির নতুন কাঠামো ও সংখ্যা
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানের ৪৬ হাজার ২০০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৫৫ হাজার ৪৪০ জনে। এর বিস্তারিত বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
ট্যালেন্টপুল: ১৪ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১৭ হাজার ৬৪০ জন।
সাধারণ কোটা: ৩১ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩৭ হাজার ৮০০ জন।
দ্বিগুণ হচ্ছে অর্থের পরিমাণ
খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—উভয় কোটাতেই অর্থের পরিমাণ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে:
| বৃত্তির ধরন | বর্তমান মাসিক ভাতা | প্রস্তাবিত মাসিক ভাতা | বর্তমান এককালীন (বার্ষিক) | প্রস্তাবিত এককালীন (বার্ষিক) |
| ট্যালেন্টপুল | ৪৫০ টাকা | ৯০০ টাকা | ৫৬০ টাকা | ১,১২০ টাকা |
| সাধারণ কোটা | ৩০০ টাকা | ৬০০ টাকা | ৩৫০ টাকা | ৭০০ টাকা |
ফলে একজন ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বছরে বর্তমানের ৫ হাজার ৯৬০ টাকার পরিবর্তে ১১ হাজার ৯২০ টাকা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ কোটার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৯৫০ টাকার বদলে বছরে ৭ হাজার ৯০০ টাকা সুবিধা পাবে। এই সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত টানা দুই বছর পাওয়া যাবে।
বাজেট ও প্রভাব
বর্তমানে এই খাতে দুই বছরে সরকারের ব্যয় হয় ৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে দুই বছরে সরকারের মোট সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব সাইদুর রহমান জানান, প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু জুনিয়র বৃত্তিই নয়, পর্যায়ক্রমে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থ বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত পড়াশোনার খরচ চালাতে আরও স্বাবলম্বী হবে এবং মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
-লামিয়া আক্তার










