মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের মধ্যেই ২০২৫ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন রেকর্ড গড়েছে সৌদি আরব। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি আরবের ইতিহাসে এক বছরে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণদণ্ড।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সৌদি আরব টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিজস্ব রেকর্ড ভেঙেছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ৩৫৬-তে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি চীন ও ইরানের পর বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ কারণেই এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। মাদকসংক্রান্ত দণ্ড: মোট ৩৫৬ জনের মধ্যে ২৪৩ জনই (প্রায় ৬৮ শতাংশ) মাদকসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। বিদেশিদের আধিক্য: এবারের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সৌদি নাগরিকদের চেয়ে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা বেশি। মূলত মাদক পাচারের দায়ে পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান এবং সিরিয়ার নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি এই দণ্ডের শিকার হয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ‘ক্যাপটাগন’ (এক ধরনের অবৈধ উত্তেজক মাদক) বাজার। সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আল-আসাদের শাসনামলে এই মাদক ছিল দেশটির প্রধান রপ্তানি পণ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে রিয়াদ। সীমান্ত ও মহাসড়কগুলোতে পুলিশের তল্লাশি বাড়িয়ে কয়েক কোটি ক্যাপটাগন বড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং বহু পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, একদিকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভিশন ২০৩০’-এর মাধ্যমে সৌদিকে একটি উদার ও আধুনিক পর্যটনবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যাপক হার সেই ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই দণ্ডকে ‘অতিরিক্ত’ ও ‘নিষ্ঠুর’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং মাদক নির্মূল করতে কঠোর আইনের প্রয়োগ আবশ্যক। তারা আরও জানিয়েছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আপিলের সব সুযোগ শেষ হওয়ার পরই কেবল এই চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকর করা হয়।
-এম. এইচ. মামুন










