ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ আরও বাড়াতে দেশটির তেল উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ৪টি কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ট্যাংকারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভেনেজুয়েলার ওপর এটি অন্যতম বড় অর্থনৈতিক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া কোম্পানিগুলো মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এই কোম্পানিগুলোর কোনো সম্পদ থাকলে তা অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনো প্রকার ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে না।
মার্কিন ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক পৃথক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। মাদুরো সরকার যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহ করে আমাদের জনজীবন বিপন্ন করছে। আমরা কোনোভাবেই এই অবৈধ সরকারকে তেল রপ্তানির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেবো না।’
ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরো সরকারকে একটি ‘নার্কো-টেররিস্ট’ (মাদক-সন্ত্রাসী) শাসকগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করে আসছে।
গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ওপর ‘সম্পূর্ণ নৌ-অবরোধ’ ঘোষণা করেন। এর ফলে মার্কিন নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলার জলসীমায় নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ডিসেম্বরজুড়ে ভেনেজুয়েলার অন্তত ৪টি বড় তেলবাহী ট্যাংকার (যেমন- ‘স্কিপার’ এবং ‘সেঞ্চুরিস’) জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা যেকোনো জাহাজ ভেনেজুয়েলার বন্দরে প্রবেশ বা বন্দর ত্যাগ করার চেষ্টা করলেই তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
২০১৭ সালে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে মাদুরোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঘোষণা করে যে কঠোর নীতি নিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে তিনি সেই অবস্থানকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এই অবরোধের ফলে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি মূলত মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
-এম এইচ মামুন










