মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভ্যাটিকান সিটি। মঙ্গলবার ভ্যাটিকানের শীর্ষ কূটনীতিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, পোপ লিও চতুর্দশ এই বোর্ডে থাকছেন না। বরং যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে দেওয়া উচিত বলে মনে করে পবিত্র ধর্মরাজ্য।
প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের তদারকি করার জন্য এই বোর্ড গঠনের কথা থাকলেও, পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর পরিধি বাড়িয়ে এটিকে একটি ‘বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা সংস্থায়’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ট্রাম্প নিজেই অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বেশ কিছু দিক তাদের ‘বিস্মিত’ করেছে এবং কিছু ‘জটিল সমস্যা’র সমাধান হওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক স্তরে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব মূলত জাতিসংঘের হওয়া উচিত। আমরা এই পয়েন্টটির ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বোর্ডে ‘পর্যবেক্ষক’ হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা বললেও ভ্যাটিকান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কার্ডিনাল পারোলিন জানান, ভ্যাটিকানের বিশেষ প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিক অবস্থানের কারণে তারা অন্যান্য সাধারণ রাষ্ট্রের মতো এই বোর্ডে অংশ নিতে পারে না।
উল্লেখ্য, ভ্যাটিকানই প্রথম নয়—ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং নরওয়েও ইতোমধ্যে এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশ্বনেতাদের অনেকের মতেই, ট্রাম্পের এই একক কর্তৃত্বাধীন বোর্ড জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও গুরুত্বকে খর্ব করতে পারে।
ইতিহাসের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশ শুরু থেকেই শান্তি স্থাপনকে তার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। গত মাসেই এক কূটনৈতিক ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তিনি বরাবরই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক সমাধানের পক্ষে কথা বলে আসছেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। গত জানুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইন বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার ধার ধারেন না, বরং নিজের ‘নৈতিকতা’ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। অভিবাসন নীতি এবং মানবিক আইনের প্রশ্নেও পোপের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আদর্শিক বিরোধ রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভ্যাটিকানসহ প্রধান ইউরোপীয় শক্তিগুলোর অনুপস্থিতি এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
-সাইমুন










