ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ ইউরোপের, তীব্র নিন্দা রাশিয়া ও ইরানের

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইরান এই হামলাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি “বৃহৎ পরিসরের হামলা” চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলার কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই। তাদের মতে, কূটনীতির পরিবর্তে “আদর্শগত শত্রুতা” প্রাধান্য পেয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে, যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।”

ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “জাতিসংঘের একটি স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।” তারা এই “আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের” তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত নিন্দা জানানোর আহ্বান জানায়।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে এবং গোপন পথে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখে।

ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়ার মধ্যে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা পরিস্থিতি “গভীর উদ্বেগের সঙ্গে” পর্যবেক্ষণ করছে এবং কারাকাসে তাদের দূতাবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একটি সংকট ব্যবস্থাপনা দল শনিবার পরে বৈঠকে বসবে বলেও জানানো হয়।

স্পেন ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে সংযম ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলেছে। একই সঙ্গে দেশটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিশেষভাবে ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ইতালীয় নাগরিকদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।

এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর “আক্রমণ” হিসেবে আখ্যা দেন এবং সতর্ক করেন যে এর ফলে একটি বড় ধরনের মানবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

এম এম সি/