প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সমাধিসৌধে কিম জং-উনের মেয়ে

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের কন্যা কিম জু আয়ে প্রথমবারের মতো দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র হিসেবে বিবেচিত ‘কুমসুসান প্যালেস অব দ্য সান’ সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশটির সাবেক দুই প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজ শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই সফরের ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ১ জানুয়ারির ওই সফরে কিম জং-উনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রি সোল জু এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমাধিসৌধের মূল হলে কিম জং-উন এবং রি সোল জুর ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় জু আয়েকে। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সাং এবং সাবেক নেতা কিম জং ইলের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল।

এর আগে কিম পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে এত কম বয়সে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় আচারের কেন্দ্রবিন্দুতে দেখা যায়নি। ফলে কিম জু আয়ের এই সফরকে কেবল পারিবারিক ভ্রমণ নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে বিশ্ব।

গত তিন বছর ধরে কিম জু আয়েকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বারবার গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচিতে হাজির হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সামরিক প্যারেড, মিসাইল উৎক্ষেপণ বা বড় কোনো রাষ্ট্রীয় সভায় তাঁর উপস্থিতি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মনে জোরালো ধারণার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ প্রজন্মের নেতা হিসেবে জু আয়েকে এখন থেকেই গড়ে তোলা হচ্ছে।
ধারণা করা হয়, কিম জু আয়ের জন্ম ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে। অতীতে কিম জং-উনের উত্তরাধিকার নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে জু আয়ের ক্রমাগত প্রকাশ্য উপস্থিতি তাঁকে কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কুমসুসান সমাধিসৌধে তাঁর প্রথম সফর এই জল্পনাকে আরও জোরালো করল।
উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কুমসুসান প্যালেস অত্যন্ত প্রতীকী। এর আগে কিম পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে এত কম বয়সে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় আচারের কেন্দ্রবিন্দুতে দেখা যায়নি। ফলে কিম জু আয়ের এই সফরকে কেবল পারিবারিক ভ্রমণ নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে বিশ্ব।

 

-এম. এইচ. মামুন