আজ বছরের প্রথম শুক্রবার। ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি অনেকের কৌতূহল—চলতি বছরে মোট কয়টি শুক্রবার বা জুমা পড়তে পারে? ক্যালেন্ডার ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী শুক্রবার সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন হলেও ইসলামে এটি সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে শুক্রবারের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে।
২০২৬ সালে কয়টি শুক্রবার হতে পারে?
খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জিতে একটি সাধারণ বছরে ৩৬৫ দিন থাকে। ৩৬৫ দিনকে ৭ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ৫২ সপ্তাহ এবং অতিরিক্ত ১ দিন। এর ফলে কোনো কোনো বছর একটি নির্দিষ্ট বার ৫৩ বার পড়তে পারে।
২০২৬ সাল সাধারণ বছর (Leap Year নয়)। বছরটি বৃহস্পতিবার দিয়ে শুরু হওয়ায়, শুক্রবার পড়বে মোট—
৫৩ বার
অর্থাৎ, ২০২৬ সালে মুসলমানরা ৫৩টি জুমা আদায়ের সুযোগ পাবেন।
ইসলামে শুক্রবারের গুরুত্ব
ইসলামি শরিয়তে শুক্রবারকে বলা হয় “ইয়াওমুল জুমু‘আ”—সমবেত হওয়ার দিন। এই দিনে মুসলমানরা জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বিশেষভাবে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে—
“সূর্য উদয়ের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার।”
(সহিহ মুসলিম)
শুক্রবারে—
আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন
জান্নাতে প্রবেশ করেছেন
পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছেন
কিয়ামতও শুক্রবারে সংঘটিত হবে বলে বর্ণনা রয়েছে
জুমার নামাজের ধর্মীয় তাৎপর্য
জুমার নামাজ ফরজ—প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম পুরুষ মুসলমানদের জন্য। এই দিনে—
গোসল করা
পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা
সুগন্ধি ব্যবহার
আগেভাগে মসজিদে যাওয়া
খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
এসব সুন্নত হিসেবে গণ্য।
বেশি জুমা মানেই বেশি সুযোগ
ধর্মীয় আলেমরা বলেন, বছরে ৫৩টি শুক্রবার পাওয়া মানে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অতিরিক্ত সুযোগ—
বেশি দোয়া কবুলের সময়
বেশি গুনাহ মাফের সুযোগ
বেশি নেক আমল করার ক্ষেত্র
বিশেষ করে দোয়া কবুলের সময় হিসেবে পরিচিত “আসরের পরের শেষ মুহূর্ত”–কে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে জুমার তাৎপর্য
বাংলাদেশে শুক্রবার সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে অধিকাংশ মুসল্লি মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করার সুযোগ পান। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনের দিন।
মাহমুদ কাওসার
নারায়ণগঞ্জ










