মোদিকে ট্রাম্প: আমাকে খুশি করা জরুরি

রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার ইস্যুতে ভারতের ওপর আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নয়াদিল্লি যদি মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধে ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা না করে, তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরও বৃদ্ধির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি একজন খুব ভালো মানুষ। তিনি জানেন যে আমি খুশি নই। আমাকে খুশি রাখা তাদের জন্য জরুরি। তাদের ব্যবসা করতে হয় এবং আমরা খুব দ্রুত তাদের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, তিনি আশা করছেন ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারত রাশিয়ার তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।

২০২৫ সালে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেল আমদানির জেরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে থেকেই কার্যকর ছিল আরও ২৫ শতাংশ পাল্টাপাল্টি (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক। সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে ভারতীয় পণ্যকে ৫০ শতাংশ শুল্ক গুণতে হচ্ছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা নিয়ে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতা করা ভারতীয় পণ্যের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে রপ্তানি চালানের পরিমাণ ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভারতের শ্রমনির্ভর খাতগুলো:

১. বস্ত্র ও পোশাক শিল্প

২. রত্ন ও অলঙ্কার

৩. চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাবার

৪. কার্পেট ও আসবাবপত্র

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রপ্তানি এভাবে ধসে পড়লে এই খাতগুলোর সাথে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়তে পারেন।

বর্তমানে ভারতের মোট রপ্তানি পণ্যের মাত্র ৩০ শতাংশ (ওষুধ, ইলেকট্রনিকস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য) শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। বাকি প্রায় ৬৬ শতাংশ পণ্যই এখন ৫০ শতাংশ উচ্চ শুল্কের কবলে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই “আমাকে খুশি রাখা জরুরি” নীতি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। রাশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজার রক্ষা করা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে নয়াদিল্লি।

 

-এম. এইচ. মামুন