হলফনামায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার সম্পদ সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজের ভাই মাহবুবের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম। নির্বাচনের লক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার হলফনামা থেকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, পেশায় ব্যবসায়ী মাহবুব আলমের বর্তমানে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তবে তার নামে কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি নেই। মাহবুব আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই।
হলফনামায় মাহবুব আলম উল্লেখ করেছেন, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরই তিনি প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। ৫৪ বছর বয়সী এই প্রার্থী এমবিএ (স্নাতকোত্তর) সম্পন্ন করেছেন।
মাহবুব আলমের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা হলেও বর্তমানে বাজারমূল্যে তা ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সম্পদের বিবরণীতে রয়েছে:
  • ব্যবসায়িক মূলধন: প্রোপাইটরশিপ ব্যবসায় তার মূলধনের পরিমাণ ৭৬ লাখ টাকা।
  • শেয়ার: দুটি কোম্পানিতে ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে।
  • স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক্স: ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য রয়েছে।
  • নগদ ও ব্যাংক জমা: তার হাতে নগদ রয়েছে ৩০ হাজার টাকা এবং ৪টি ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৫৪ হাজার ৬১২ টাকা।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও হলফনামায় তার নামে কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মাহবুব আলম রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকার মোল্লা বাড়ির আজিজুর রহমানের ছেলে। তার বাবা আজিজুর রহমান ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
প্রথমবারের মতো রিটার্ন জমা দেওয়া এবং সম্পদের উৎস প্রসঙ্গে মাহবুব আলম জানান, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি প্রায় এক বছর অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। মূলত প্রবাসে থাকাকালীন সময়েই তিনি এসব অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে তিনি লড়লেও তার ভাই মাহফুজ আলম এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বলে এর আগে জানিয়েছেন।

 

-এম এইচ মামুন