নতুন বছরে বাড়ির সাজসজ্জা

বছরের শেষ দিন আজ, আগামীকালই শুরু হবে নতুন বছর। নতুন বছরে একটাই আশা, আগামী বছরের দিনগুলো যেন ভাবে কাটে। অনেকেই বছরের শুরুতে বাড়িকে নতুনভাবে নতুন জিনিসপত্র দিয়ে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

শহরে এখন অনেকেই ফ্ল্যাট বাড়িতে বসবাস করে। বড় শহরের বাইরে বাড়িতে বসবাস করে থাকেন। বাড়ি বা ফ্ল্যাটগুলো পরিচ্ছন্নতা কেবল নান্দনিকতাই বাড়ায় না, মানসিক প্রশান্তি দেয়, স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রতিদিনের কাজকে আরও সহজ করে তোলে।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে থাকলে ঘর যেমন অপরিচ্ছন্ন দেখায়, তেমনি কাজে মনোযোগ কমায়। প্রতি সপ্তাহে ঘরের একটি অংশ বেছে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেললে, ধীরে ধীরে পুরো ঘর হালকা ও গোছানো হয়ে ওঠে। বাড়িতে থাকা ভাঙা জিনিসপত্র আজই বিদায় করুন। ভাঙা কাপ, ভাঙা আয়না, পুরোনো ঝাঁটা, ভাঙা বালতি ঘরে রাখবেন না। তা অমঙ্গলের লক্ষণ। এগুলি বাড়ি থেকে দূর করলেই ফিরবে গৃহশান্তি। বিশেষ করে রান্নাঘরের আলমারি বা ড্রয়ার পরিষ্কার করা জরুরি, যেখানে ব্যবহার না হওয়া পাত্র বা বোতল বছরের পর বছর পড়ে থাকে। অন্তত মাসে একবার বড় ধরনের ছাঁটাই করলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঘর থেকে বিদায় নেয়।

রান্নাঘর বা বাথরুম পরিষ্কার করতে গেলে অনেকেরই মনে হয় যেন পাহাড়সম কাজ। তবে ব্যবহার শেষে সাথে সাথে একটু পরিষ্কার করে নেওয়া, রান্নার পর চুলা মুছে ফেলা বা পানি ছিটে গেলে সাথে সাথে মোছা। এ ধরনের ছোট পদক্ষেপে ময়লা জমে থাকার সুযোগ থাকে না। ফলে বড় করে পরিষ্কারের সময় খুব কম পরিশ্রমেই কাজ হয়ে যায় এবং ঘর সারাক্ষণই থাকে পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক।

নতুন বছরে রান্নাঘর পরিষ্কারের পাশাপাশি ঘর পরিষ্কারে গুরুত্ব দেওয়া যায়। ঘরে রাসায়নিক পরিষ্কারের দ্রব্যের বদলে উদ্ভিদজাত উপাদানভিত্তিক পরিষ্কার সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। রাসায়নিক দ্রব্য অনেক সময় বায়ুর গুণমান খারাপ করে এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে ঘর পরিষ্কার হয় নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে। সামান্য ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে স্প্রে বা বেইকিং সোডা দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা সহজ ও সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে।

প্রতিদিনের হালকা পরিষ্কারের পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন বাড়তি সময় নিয়ে গভীরভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। মেঝের কোণা, দরজার নিচের অংশ, সিলিং ফ্যান বা বাথরুমের টাইলস- এসব জায়গায় দ্রুত ময়লা জমে। নিয়মিত সাপ্তাহিক গভীর পরিষ্কারে নতুন বছরেও এসব জায়গায় ময়লা জমতে পারবে না। আর ঘর থাকবে সতেজ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। বাড়িতে থাকা খাটের নিচে কিংবা শৌচালয়ের এক কোণে এক বাটি সৈন্ধব নুন রাখুন। তার ফলে বাড়ি থেকে দূরে থাকবে পোকামাকড়। বাস্তুশাস্ত্র বিদদের মতে, আবার আপনার উন্নতিও হবে।

ঘরে গাছ আনুন। তুলসী গাছ যেন অবশ্যই থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এছাড়া মানিপ্ল্যান্ট, স্নেকপ্ল্যান্ট, এরিকা পামসহ নানা গাছ বাড়িতে আনতে পারেন। তাতে পরিজনরা হয়ে উঠবেন আরও ফুরফুরে। গৃহসজ্জায় অনেকেই ঘণ্টা ব্যবহার করেন। আপনিও তা কাজে লাগাতেই পারেন। তবে ঘণ্টার আওয়াজ যেন অত্যন্ত শ্রুতিমধুর হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

বাড়িতে অবশ্যই রোজ ধূপ জ্বালাবেন। কর্পূর এবং ধুনোও জ্বালাতে পারেন। সুবাসে দূর হবে নেতিবাচক শক্তি। সংসারের শ্রীবৃদ্ধি হবে। অর্থাগমও হবে। এছাড়া পরিবারের লোকজনের শরীর স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

সানা