চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ২০২৫-২৬ সিজন ফুটবল বিশ্বকে এক নতুন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নতুন ফরম্যাটের এই লীগ ফেজে যখন রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ বা ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলগুলো গোল করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন পরিসংখ্যানের পাতায় দাপট দেখাচ্ছে ইউরোপের তথাকথিত ‘ছোট’ দলগুলো। সাম্প্রতিক এক ডাটা অ্যানালাইসিস বলছে, গোলের সুযোগ তৈরির (xG – Expected Goals) হার এবং তা গোলে রূপান্তর করার দক্ষতায় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফেভারিট দলের চেয়েও এগিয়ে আছে ৩টি স্বল্প পরিচিত ক্লাব।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের আসরে পিএসজি বা লিভারপুলের মতো হেভিওয়েট দলগুলো গড়ে প্রতি ম্যাচে যে পরিমাণ শট গোলমুখে নিচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে জিরোনা, স্পোর্টিং লিসবন এবং অ্যাস্টন ভিলার মতো দলগুলো। অবাক করা বিষয় হলো, চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা রিয়াল মাদ্রিদ এখন গোল করার দক্ষতায় (Conversion Rate) তালিকার ১৫তম স্থানেরও নিচে অবস্থান করছে। অথচ এই তালিকায় শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল ও স্পেনের মাঝারি সারির দুটি ক্লাব।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলগুলোর তারকা খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার ক্লান্তি (Player Fatigue) এবং ইনজুরিতে ভুগলেও, ছোট দলগুলো তাদের উচ্চ-গতির ফুটবল এবং কাউন্টার অ্যাটাকিং স্টাইলে বাজিমাত করছে। বিশেষ করে ‘প্রেসিং ডিস্টেন্স’ বা মাঠে দৌড়ানোর পরিসংখ্যানেও রিয়াল-সিটির মতো জায়ান্টদের চেয়ে গড়ে ১২ শতাংশ বেশি দৌড়াচ্ছে এই উদীয়মান দলগুলো। ফলে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বড় তারকারা যখন বল পজিশন ধরে রাখতে ব্যস্ত, তখন এই ‘পুঁচকে’ দলগুলো প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোতেই বেশি সফল হচ্ছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লীগের এই ‘বিপরীতমুখী’ পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ফুটবল কেবল এখন নাম বা ঐতিহ্যের লড়াই নয়, বরং আধুনিক ডেটা এবং ট্যাকটিক্যাল ফিটনেসের লড়াই। লীগ ফেজের এই অদ্ভুত পরিসংখ্যান যদি নকআউট পর্বেও বজায় থাকে, তবে ২০২৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে হয়তো কোনো নতুন শক্তির অভ্যুদয় দেখবে ফুটবল বিশ্ব। বড় দলগুলোর জন্য এই পরিসংখ্যান এখন এক বড় সতর্কবার্তা কেবল নামের ভারে যে এবার ইউরোপ জয় সম্ভব নয়, তা পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে।










