২০২৫: এআই বিনিয়োগের ‘সুপারসাইকেল’ বছর

ছবি: আজকের পত্রিকা

২০২৫ সালকে এআই খাতে বিনিয়োগের ইতিহাসে এক বিশেষ বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টার্টআপ ফান্ডিং থেকে ডেটা সেন্টার, শক্তি অবকাঠামো এবং নীতিনির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই এআই এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল হাতিয়ার। বছরের শেষ দিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এআই খাতে মোট বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২০২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে শুধু স্টার্টআপগুলোই তুলেছে ১৫০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র এআই বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এগিয়েছে। দেশটিতে বিনিয়োগের বড় অংশ গেছে স্টার্টআপ, ফাউন্ডেশন মডেল ল্যাব, ডেটা সেন্টার এবং জিপিইউ-ভিত্তিক কম্পিউট অবকাঠামোতে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক ও এক্সএআইয়ের মতো ল্যাবগুলো এক রাউন্ডে ৫–৪০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো স্টারগেট প্রকল্প, যেখানে আগামী কয়েক বছরে সর্বোচ্চ ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই কম্পিউট হাবে পরিণত করতে।

ইউরোপ

ফ্রান্স এ বছর এআইকে অবকাঠামোর অংশ হিসেবে এগিয়েছে। দেশটি ঘোষণা করেছে প্রায় ১০৯ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ, যা হাই-ক্যাপাসিটি ডেটা সেন্টার ও কম্পিউট ক্লাস্টারে ব্যবহার হবে। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসেও শিল্প অটোমেশন, রোবোটিকস এবং গবেষণামুখী কম্পিউট অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ হয়েছে।

ভারত

ভারত ঘোষণা করেছে ‘ইন্ডিয়ান এআই মিশন’। প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার সরকারি বরাদ্দ দিয়ে দেশীয় স্টার্টআপ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এবং জিপিইউ কম্পিউট অ্যাকসেসকে সহায়তা করছে। ভারত এআইকে সাশ্রয়ী করে দ্রুত শিল্প ও সেবা খাতে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চায়।

চীন

চীনের বিনিয়োগ মূলত রাষ্ট্রীয় তহবিল ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্যাপেক্সের মাধ্যমে হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রীয় ভেঞ্চার ফান্ড চালু করেছে প্রায় **২১ বিলিয়ন ডলার** মূলধনে। প্রধান ফোকাস ছিল চিপ, কম্পিউট এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত এআই সক্ষমতা। বড় প্রতিষ্ঠান যেমন বাইটড্যান্সও এ বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্য

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—ডেটা সেন্টার, ক্লাউড অবকাঠামো এবং এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে বড় বিনিয়োগ করছে। যুক্তরাজ্য বিনিয়োগ করেছে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ খাতে, যেমন স্বাস্থ্য, ফিন্যান্স ও প্রশাসনিক সেবা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ বছরকেন্দ্রিক এআই বিনিয়োগ আগামী বছরেও বাড়বে, কারণ পরাশক্তির দেশগুলো এআই ব্যবহার করে নিজেদের শক্তি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণ করতে চাচ্ছে।

সূত্র: ক্রাঞ্চবেস নিউজ, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, রয়টার্স এবং ওয়াশিংটন পোস্ট

সাবরিনা/