মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে দ্রুত নিরস্ত্র হওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে তা “খুব দ্রুত ধ্বংস করে দেওয়া হবে” বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
সোমবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বৈঠকে গাজায় ট্রাম্প-মধ্যস্থতাকৃত যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নেওয়া, ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ আলোচনায় উঠে আসে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল তার দায়িত্ব পালন করছে এবং হামাসকে চুক্তির শর্ত মানতে হবে।
“আমরা হামাস নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কথা বলেছি। তাদের খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছে নিরস্ত্র হওয়ার জন্য,” বলেন ট্রাম্প।
“যদি তারা নিরস্ত্র না হয়—যার ব্যাপারে তারা সম্মত হয়েছিল—তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।”
হামাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে উত্তেজনা
অক্টোবর ১০ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি বন্দিদের বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ইসরায়েলের প্রায় প্রতিদিনের হামলায় অন্তত ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং গাজা- মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং খুলতে বিলম্ব করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতির বিলম্বের জন্য ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে হামাসকেই দায়ী করেন। হামাস আগেই জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখল চলাকালে তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না, তবে ৭ থেকে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি।
ইরানকে নতুন হুমকি
ট্রাম্প দাবি করেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার পর ইরান আবারও তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
“যদি তারা আবার গড়ে তুলতে চায়, আমরা সেটি ধ্বংস করে দেব,” বলেন ট্রাম্প। তবে
তিনি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, এটি তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি।
জুনে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা জবাব দেয়।
সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান বিপুল সংখ্যায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যা ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করতে পারে।
ট্রাম্প ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগে চুক্তি করলে বড় হামলা এড়ানো যেত।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হলে তা বৃহত্তর ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরান আক্রান্ত হলে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে “আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর”।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও, প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এম এম সি/










