নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, রাজনীতি থেকে নারীর ঝরে পড়া কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি কাঠামোগত ও ক্ষমতাগত বৈষম্যের ফল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের ৫২ শতাংশ জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে গণতন্ত্র কীভাবে অর্থবহ হবে?
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনীতিতে নারীর হতাশাজনক চিত্র
সভায় উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৪ থেকে ৪.৫ শতাংশ, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, “৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রায় ৩০টি দলই কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি, যা নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করেনি। অনেক নারী প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করছেন, যা দলগুলোর ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
গণভোট ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য
উপদেষ্টা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি ভেঙে পড়া রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের সম্মতি ও অংশগ্রহণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। যখন দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের সম্মতি উপেক্ষিত হয়, তখনই একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।”
নির্বাচনী নিরাপত্তা
নির্বাচনকালীন সময়ে নারী প্রার্থী ও নারী ভোটারদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরাসরি মাঠে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, নারী অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










