ইরানে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে যেমন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, তেমনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও আছেন। তবে এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির জন্য আন্দোলনকারীদের বদলে ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিহতের সংখ্যা কয়েকশ দাবি করলেও, এই প্রথম কোনো সরকারি সূত্র থেকে ২ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা জানানো হলো। ইরান সরকার বর্তমানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং গত কয়েকদিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
ইরানের এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির চার দশকেরও বেশি পুরনো শাসনব্যবস্থার পতন দেখছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারজ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি ধারণা করছি আমরা এই শাসনের শেষ দিন বা সপ্তাহগুলো প্রত্যক্ষ করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, যদি কেবল সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে সেই শাসনের কার্যত সমাপ্তি ঘটেছে। তবে তার এই পূর্বাভাস কোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
জার্মান চ্যান্সেলরের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি বার্লিনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তুলে বলেন, এর ফলে জার্মানি তার সামান্যতম বিশ্বাসযোগ্যতাও হারিয়েছে।
এদিকে, ইরানের চলমান সংকটের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক ঘোষণা দেন, যেসব দেশ ইরানের সাথে ব্যবসা করবে তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বেড়ে গেছে জ্বালানি তেলের দাম।
ইরান সরকার এই বিক্ষোভের জন্য বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তবে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি বলেন, “সরকার বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী—উভয়কেই নিজের সন্তান মনে করে। আমরা তাদের কথা শোনার চেষ্টা করছি।”
উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প থাকলেও কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দেশটির বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
-এম. এইচ. মামুন










