দক্ষিণ কোরিয়া সরকার নাগরিকদের প্রেমে উৎসাহ দিতে দিচ্ছে অর্থ সাহায্য

দক্ষিণ কোরিয়া দেশে জন্মহার দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে যুবসমাজকে প্রেম, ডেটিং, বিয়ে ও সন্তানধারণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিবাহ না করার এবং সন্তান না নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কিছু দশক ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার নবজাতক সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাকরির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে যুবসমাজ ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পরিবার শুরু করতে অনীচ্ছে। ফলে দেশের জন্মহার তীব্রভাবে কমেছে।

২০২৩ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার ০.৭২, যা স্বাস্থ্যকর জনসংখ্যা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ এর অনেক নিচে। ১৯৬০-৭০-এর দশকে দেশের গড় সন্তান সংখ্যা ছিল ৬-৪টি। বর্তমানে প্রজনন হার এতটা কমে গেছে যে, সতর্ক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে দেশের অস্তিত্বেরও হুমকি দেখছেন।

সরকার জন্মহার বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি প্রথমবারের মতো যুবসমাজকে ডেটিং ও সম্পর্ক গড়ার জন্য অর্থনৈতিক উৎসাহ দিচ্ছে। ডেইটে যাওয়ার জন্য যুগলরা রেস্তোরাঁ, সিনেমা, ভ্রমণ বা একান্ত সময় কাটাতে সর্বাধিক ৩৫০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে।

শুধু তাই নয়, যুগলের মা-বাবার সঙ্গে দেখা বা পরিচয় করানোর খরচও সরকার বহন করবে। বিবাহের ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ আরও বেশি— বিয়ের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক যুগল ১৩,০০০ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। সন্তানধারণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো তরুণদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক চাপকে প্রশমিত করে পরিবার ও সন্তানধারণে উৎসাহিত করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগ ছাড়া দেশটির জন্মহার আরও হ্রাস পেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যাগত সংকট সৃষ্টি হতে পারে।