মিয়ানমারের নির্বাচনে সেনা-সমর্থিত দলের নিরঙ্কুশ জয়

ছবিঃ সংগৃহীত

 মিয়ানমারে নির্বাচনকালীন সময়ে বিমান হামলায় ১৭০ জন নিহত হওয়ার খবর জাতিসংঘের, ভোটকে ‘মুক্ত ও সুষ্ঠু’ বলছে সামরিক সরকার। অবশ্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল দেশটির তিন ধাপে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। গৃহযুদ্ধ ও ব্যাপক দমন-পীড়নের মধ্যে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

গত সপ্তাহান্তে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের চার বছরেরও বেশি সময় পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচন শুরু হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর।

সব ধাপের ভোটে আধিপত্য বিস্তার করে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) দেশটির দুই কক্ষের সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, নিম্নকক্ষে মোট ২৬৩টি আসনের মধ্যে ইউএসডিপি ২৩২টি আসনে জয় পেয়েছে। অপরদিকে, উচ্চকক্ষে এখন পর্যন্ত ঘোষিত ১৫৭টি আসনের মধ্যে দলটি ১০৯টি আসন দখল করেছে।

সামরিক সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, মার্চ মাসে সংসদ অধিবেশন বসবে এবং সেখানে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এপ্রিল মাসে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে সেনা-সমর্থিত ইলেভেন মিডিয়া গ্রুপ জানিয়েছে।

মিয়ানমার-সাবেক বার্মা-২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই গভীর রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে। গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযানের ফলে দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

‘ভয়ের কারণে ভোট’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান (আসিয়ান) জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দেবে না। মানবাধিকার সংগঠন এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। অনেকেই দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি।

জাতিসংঘের হিসাবে, নির্বাচনকালীন সময়ে বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন,
“অনেক মানুষ শুধুমাত্র ভয়ের কারণে ভোট দিতে বা ভোট না দিতে বাধ্য হয়েছেন।”

তবে মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা দাবি করেছেন, নির্বাচন ছিল মুক্ত ও সুষ্ঠু এবং জনগণের সমর্থন পেয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সামরিক সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়ন করা হবে।

অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিছু দল নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচন সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর জন্য সংসদের ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে, যার ফলে বেসামরিক সরকারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হলেও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকে।

সুত্রঃ আল জাজিরা

বেলাল হোসেন/