৩০০ আসনে জোটবদ্ধ লড়াইয়ে বামপন্থীরা, প্রার্থী চূড়ান্তে শেষ পর্যায়ের সমঝোতা

ছবি:সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনশ আসনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে বামপন্থী দলগুলোর বৃহত্তর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’। আসন ভাগাভাগি ও একক প্রার্থী নির্ধারণে শরিক দলগুলোর মধ্যে টানা আলোচনা চলছে, যা মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জোট নেতারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবকটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বামপন্থী দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’। এর মধ্যে শরিক রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রায় আড়াইশ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল শক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমাজে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিও সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে জোটটি।

যুক্তফ্রন্ট নেতারা জানান, আসন সমঝোতা নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। রোববারও এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং সময়সীমা পার হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

গত ২৯ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। ‘আন্দোলন ও নির্বাচন’—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে গঠিত এই জোটে নয়টি বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত ছয়টি দল ছাড়াও বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার একটি শরিক দল রয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জোটের নিবন্ধিত দলগুলো প্রাথমিকভাবে নিজ নিজ খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। পরে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে এসব তালিকা নিয়ে সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় অনেক আসনে সমঝোতার মাধ্যমে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। নেতারা জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১৪০টি আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে এবং আজকের মধ্যেই আরও শতাধিক আসনে সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জোটের অনিবন্ধিত দলগুলোর পক্ষ থেকেও কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এসব প্রার্থী জোটভুক্ত নিবন্ধিত দলগুলোর প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেবেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম, দলিত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন থেকেও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আসন সমঝোতার মাধ্যমে সমর্থন দেওয়া হবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প হিসেবে শোষণমুক্ত ও সমতার সমাজ গড়তেই এই জোট গঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, জোটের নেতৃত্বে একটি বাম প্রগতিশীল সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন জানান, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, জোটগতভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং দ্রুতই তা ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় সোমবার বিকেল পাঁচটা।

আফরিনা সুলতানা/