বাজারে ইতিমধ্যে দেখা মিলছে শীতের তুমুল জনপ্রিয় সবজি ফুলকপির। একটু খুঁজলে ফুলকপির ‘আরেক ভাই’ ব্রকলিরও দেখা পাবেন। এই ব্রকলি ও ফুলকপি দুটিই বেশ স্বাস্থ্যকর। ফুলকপি না ব্রকোলি, স্বাদেও টেক্কা দেয় একে-অপরকে। কিন্তু স্বাস্থ্যগুণের দিক কে এগিয়ে, সেটা অনেকেই বুঝতে পারে না। কোনটিকে আপন করে নিলে শরীর নিয়ে ভাবনা দূর হবে? মাছের পাতলা ঝোল থেকে সালাদ সবকিছুতেই ফুলকপি আর ব্রকোলির চাহিদা অফুরান।
ফুলকপিতে আছে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়া আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন ই ও ভিটামিন কে। আছে ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফোলেট ও ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ।
ব্রকোলিতেও আছে এসব উপাদান তবে এই সব উপাদান ব্রকোলিতে আছে ফুলকপির চেয়ে বেশি। ব্রকোলিতে ফুলকপির চেয়ে বেশি ভিটামিন সি ও ফাইবার রয়েছে। ব্রকোলিতে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ৬, নিয়াসিন, থিয়ামিন, রাইবোফ্ল্যাভিন, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক ও ক্যালশিয়াম।
ব্রকলিতে ফুলকপির চেয়ে বেশি ভিটামিন সি, ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম থাকে। এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। এক কাপ রান্না করা ব্রকলিতে ৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। অন্যদিকে ১ কাপ রান্না করা ফুলকপিতে থাকে ৩ গ্রাম ফাইবার। ফাইবার হজমে সাহায্য করে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ক্ষুধা কমাতে সহায়ক। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। ব্রকলিতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ফুলকপির চেয়ে বেশি, যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ব্রকলির সবুজ রঙে থাকা লুটেইন চোখ, ত্বক, মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী।
পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, ব্রকোলি এবং ফুলকপি দুটোই যথেষ্ট উপকারী। তবে কার শরীরে কোন উপাদানের প্রয়োজন, তার উপর নির্ভর করছে কে কোনটি খাবেন। কারও যদি শরীরে ভিটামিন এবং ফাইবারের অভাব ঘটে থাকে, সে ক্ষেত্রে ব্রকোলি খাওয়া যেতে পারে। আবার কেউ যদি লো-কার্ব এবং কম ক্যালোরা ডায়েট করেন, তা হলে ফুলকপি হতে পারে সেরা বিকল্প।
ব্রকলি ও ফুলকপি ক্রুসিফেরাস সবজি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, কিছু ক্যানসারের বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখে। যেখানে এগিয়ে ফুলকপি ব্রকলির তুলনায় কার্বোহাইড্রেট কম। তাই ওজন কমাতে চাইলে শীতকালীন ডায়েটে ফুলকপির বিকল্প নেই। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গর্ভাবস্থায় এটি বেশ উপকারী। ফুলকপিতে কোলিন বেশি থাকে। কোলিন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া দাঁত শক্ত করে, হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী, রোগ প্রতিরোধ করে, শক্তি জোগায়, চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী, পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। বিশেষ করে যাঁরা মাংস কম খান, তাঁদের কোলিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে ফুলকপি।
যাঁদের ভিটামিন সি দরকার, তাঁরা অল্প করে হলেও ব্রোকলি প্রতিদিন খেতে পারেন। ব্রোকলির বিটা ক্যারোটিন ও সেলিনিয়াম যৌথ ও ভিটামিন সি প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস, যকৃত, স্তন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। এতে প্রচুর ভিটামিন এ থাকায় ত্বকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে বাধা দেয়। সর্দি-কাশিও ঠেকাতে পারে ব্রোকলি। গ্যাসট্রিক আলসার ও গ্যাসট্রাইটিস প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর ব্রোকলি। শরীরে সক্রিয় অক্সিজেন প্রতিরোধ করে ও বিষমুক্ত করে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করে ব্রোকলি। ব্রোকলিতে থাকা ভিটামিন সি ত্বক সুন্দর করে।










