কাস্টিংয়ের নেপথ্যে বাজেটের রাজনীতি: ইমরান খান

বলিউডে অভিনয়শিল্পী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিভার চেয়ে বাজেটকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি পর্দার পেছনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন, যা অনেকের কাছেই অজানা। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে বলিউডের কাস্টিং প্রক্রিয়ার কঠিন ও বাস্তব দিক।

২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত ‘মাত্রু কি বিজলি কা মন্ডোলা’ সিনেমার উদাহরণ টেনেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান ইমরান। তিনি বলেন, ওই সিনেমার জন্য তিনি নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। শুরুতে সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য ভাবা হয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেতা অজয় দেবগনকে। তবে বাজেট সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণেই শেষ পর্যন্ত ইমরান খানের দিকেই ঝুঁকেন নির্মাতারা।

ইমরান খান বলেন বলিউডে অনেক সময়ই দেখা হয় না কোন চরিত্রের জন্য কোন অভিনেতা সবচেয়ে উপযুক্ত। বরং হিসাব করা হয়, কোন অভিনেতাকে নিলে সিনেমার বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এবং বিনিয়োগের বিপরীতে কতটা আয় করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ শিল্পী নির্বাচন অনেকাংশেই নির্ভর করে বাণিজ্যিক সমীকরণের ওপর।

এক সময় বলিউডের রোমান্টিক ও তরুণ চরিত্রের জন্য পরিচিত ইমরান খান এখন অভিজ্ঞতা ও জীবনের বাস্তবতা নিয়ে ফিরছেন—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার সাম্প্রতিক মন্তব্য বলিউডের অন্দরমহলের বাস্তবতা নতুন করে সামনে এনেছে, যেখানে প্রতিভার পাশাপাশি বাজেট ও ব্যবসায়িক হিসাবই অনেক সময় মুখ্য হয়ে ওঠে।

নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পারিশ্রমিক নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন ইমরান। তিনি জানান, মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি বলিউডে সফলতা পেয়েছিলেন। এক সময় সিনেমা প্রতি তার পারিশ্রমিক ছিল ৭ থেকে ১০ কোটি রুপি। তবে ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তখন সুযোগ পাওয়ার আশায় মাত্র ৫ লাখ রুপিতেও কাজ করতে রাজি ছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে রুপালি পর্দা থেকে দূরে থাকা এই অভিনেতা পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়েও কথা বলেন। ২০১৯ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তীব্র অবসাদে ভোগেন বলে স্বীকার করেন। সেই সময় নিজেকে সামলে নেওয়া এবং মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠাই ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্যক্তিগত সংকট ও ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এবার আবারও বলিউডে ফিরতে চলেছেন ইমরান খান। দীর্ঘ বিরতির পর ‘হ্যাপি প্যাটেল’ সিনেমার মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে। এই সিনেমাটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন পর্দায় নতুন রূপে ইমরানকে দেখার জন্য।

ইমরান খানের এই স্বীকারোক্তি শুধু তার ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং বলিউডের বাস্তব চিত্রেরই প্রতিফলন। দীর্ঘ বিরতির পর তার প্রত্যাবর্তন কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

বিথী রানী মণ্ডল/