বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধানের স্মরণে সামরিক আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন করল তুরস্ক

তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ কয়েকজন লিবীয় কর্মকর্তার স্মরণে একটি সামরিক আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন করেছে তুরস্ক।

রোববার রাজধানী আঙ্কারার কাছে মুরতেদ বিমানঘাঁটিতে এ আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং দেশটির সামরিক প্রধান সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু উপস্থিত ছিলেন। নিহত আল-হাদ্দাদসহ চারজন লিবীয় সামরিক কর্মকর্তা উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা আলোচনায় অংশ নিতে তুরস্কে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার তাদের বহনকারী বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

আল-হাদ্দাদ ছিলেন লিবিয়ার সর্বোচ্চ পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দেশটির বিভক্ত সশস্ত্র বাহিনীকে একত্রিত করার প্রচেষ্টার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে লিবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরগুলোর পক্ষ থেকেও শোকবার্তা জানানো হয়েছে।

আল-হাদ্দাদের নিজ শহর মিসরাতা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মালিক ট্রাইনা বলেন, “হাদ্দাদ ছিলেন একজন শক্তিশালী ও ক্যারিশমাটিক নেতা, যিনি সব সময় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। তিনি ছিলেন শান্তির মানুষ এবং যাদের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করেছিলেন, তাদের মধ্যেও তিনি সম্মানিত ছিলেন।”

পূর্ব লিবিয়াভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের প্রধান খলিফা হাফতার—যার বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে পশ্চিম লিবিয়ায় অভিযানের সময় আল-হাদ্দাদ অবস্থান নিয়েছিলেন—তিনিও শোক প্রকাশ করেন। এক বিবৃতিতে হাফতার এই ঘটনায় “গভীর শোক” প্রকাশ করে আল-হাদ্দাদের পরিবার, গোত্র ও শহরের পাশাপাশি “সমগ্র লিবীয় জনগণের” প্রতি সমবেদনা জানান।

তুরস্কে আনুষ্ঠানিকতা শেষে লিবিয়ার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো পাঁচটি কফিন একটি বিমানে করে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা টিআরটি জানিয়েছে, তুরস্কের সামরিক প্রধান বায়রাকতারওগ্লুও ওই বিমানে ছিলেন।

২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর থেকেই লিবিয়া অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত। দেশটি বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিমে বিভক্ত, যেখানে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ভিন্ন ভিন্ন বিদেশি শক্তির সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন রয়েছে।

পশ্চিম লিবিয়াভিত্তিক সরকারের প্রধান সমর্থক হিসেবে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে সম্প্রতি পূর্বাঞ্চলভিত্তিক প্রশাসনের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

মালিক ট্রাইনা বলেন, জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আল-হাদ্দাদের স্থলাভিষিক্ত করার মতো সমানভাবে সম্মানিত কাউকে খুঁজে পাওয়া পশ্চিম লিবিয়ার সরকারের জন্য “অত্যন্ত কঠিন” হবে। তিনি বলেন, “এটি পূরণ করার মতো জায়গা খুবই বড়।”

সূত্র: রয়টার্স

এম এম সি/