যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শক্তিকে ঘিরে নতুন কৌশলগত বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় মার্কিন বিমানবাহিনী অ্যাজাইল কমব্যাট এমপ্লয়মেন্ট (এসিই) কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছে। এই কৌশলের মূল কথা হলো বিমান ও ঘাঁটি ছড়িয়ে দিয়ে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকি কমানো। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, শুধু ছড়িয়ে পড়লেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াইল্ড ব্লু ইয়নডারে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে আমান্ডা মোলিনা সতর্ক করেছেন, এসিই কৌশলে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে থাকা বাহিনীর নিজস্ব আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ফলে ছোট ছোট ঘাঁটিগুলো শত্রুর দীর্ঘপাল্লার হামলার মুখে ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যেতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রোসিডিংসে লেখা এক বিশ্লেষণে মাইকেল ব্লেজার বলেন, এসিই ধারণা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের উড্ডয়ন সক্ষমতা চীনের ‘কিল চেইন’ থেকে আঘাত হানার চক্রের চেয়ে দ্রুততর হবে এই অনুমানের ওপর। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে সেই চক্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে সংকুচিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চীনের সমন্বিত দীর্ঘপাল্লার অগ্নিশক্তির মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে জয়েন্ট ফোর্স কোয়ার্টারলিতে প্রকাশিত আরেক বিশ্লেষণে জ্যাকারি হিউজেস যুক্তি দেন, ছড়িয়ে পড়ার ফলে দক্ষতা কমে যেতে পারে। আধুনিক উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য বিশেষায়িত রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জাম প্রয়োজন। এগুলো প্রতিটি স্থানে আলাদা করে রাখা ব্যয়বহুল, আর না রাখলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে লজিস্টিক ব্যয় ও জটিলতা দুটোই বাড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক কৌশলবিদ মনে করছেন, চীনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে হবে। তাদের মতে, এজ পালসড কোর ধরনের স্তরভিত্তিক বাহিনী কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে সামনের সারিতে নাজুক ঘনবিন্যাসের বদলে থাকবে টেকসই ও ছড়ানো উপস্থিতি, আর গভীর আঘাত হানার জন্য থাকবে শক্তিশালী বোমারু সক্ষমতার সুনির্দিষ্ট পালস।
তবে এই কৌশল সফল করতে হলে বেশ কিছু মৌলিক সমস্যা সমাধান করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ঘাঁটি নিশ্চিত করা, বোমারু বিমানের সক্ষমতা বাড়ানো, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা এবং শত্রুর কিল চেইন ভেঙে দেওয়ার মতো প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক ঘাটতি পূরণ করা; এসবই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নইলে বিচ্ছিন্নতা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি ঘনবিন্যাসও অনিরাপদ থেকে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে শুধু কৌশল ঘোষণা নয়, সেই কৌশলের দুর্বলতাগুলো দূর করাই হবে আসল পরীক্ষা।
-সাইমুন










