শীতের সকালে খালি পেটে আদা জল খাওয়ার উপকারিতা

শীতকালে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তার মধ্যে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও নাক বন্ধ হওয়া অন্যতম। আদার মধ্যে থাকা জিঞ্জেরল নামক উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সকালে আদা জল পান করলে গলা পরিষ্কার থাকে, কফ পাতলা হয় এবং শ্বাসনালি আরাম পায়। নিয়মিত এই অভ্যাস শীতজনিত সংক্রমণ থেকে শরীরকে কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে পারে।

খালি পেটে আদা জল খাওয়ার উপকারিতা শীতকালসহ সারা বছরই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আদা একটি প্রাকৃতিক ভেষজ, যা হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদ ও ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সকালে উষ্ণ আদা জল পান করলে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ হয়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দিন শুরু হয় সতেজ অনুভূতি দিয়ে।

হজমের জন্য আদা জল অত্যন্ত কার্যকর। শীতকালে হজমশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, ফলে গ্যাস, বদহজম ও পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। আদা জল পাকস্থলীর রস নিঃসরণ বাড়ায় এবং হজমপ্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। খালি পেটে আদা জল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পেট পরিষ্কার থাকে। যারা সকালে ভারী ভাব বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তাদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও আদা জল সহায়ক ভূমিকা রাখে। আদা শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায়, ফলে ক্যালরি পোড়ানোর হার বৃদ্ধি পায়। যারা ধীরে ধীরে ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সকালে আদা জল একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে। একই সঙ্গে এটি রক্ত সঞ্চালন ভালো করে এবং শরীরের পেশির জড়তা কমায়।

আদা জল শরীরের ভেতরের টক্সিন বা বর্জ্য দূর করতেও সাহায্য করে। রাতে ঘুমের সময় শরীরে যে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য জমে, সকালে আদা জল তা বের করতে সহায়তা করে। এর ফলে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং শীতকালের শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ ভাব কিছুটা কমে। নিয়মিত আদা জল পান করলে ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও ফিরে আসে।

এ ছাড়া আদা জল মানসিক সতেজতাও বাড়ায়। সকালে এটি পান করলে ঘুম ঘুম ভাব কাটে, মনোযোগ বাড়ে এবং কাজের শক্তি পাওয়া যায়। খুব সহজভাবে এক কাপ গরম জলে সামান্য কুচি করা আদা বা আদার রস মিশিয়ে এই পানীয় তৈরি করা যায়। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে আদা জল খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ, সক্রিয় ও রোগমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিথী রানী মণ্ডল/