নতুন বছরে আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ঘোষণা কিম জং উনের

আসন্ন ২০২৬ সালে সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার সংকল্প ঘোষণা করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বছর শেষে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, নতুন বছরে আরও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে হবে।

কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কিমের এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কিম জং উন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ‘বেপরোয়া উস্কানি’ মোকাবেলা করতে পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্রাগারকে আরও সমৃদ্ধ করার বিকল্প নেই।

সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন: কিম জং উন জানিয়েছেন, নতুন বছরে উত্তর কোরিয়া কেবল সংখ্যায় নয়, বরং প্রযুক্তিতেও বিশ্বকে চমকে দেবে। তাদের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • অত্যাধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরি, যা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম।

  • তদারকির জন্য একাধিক সামরিক গোয়েন্দা উপগ্রহ উৎক্ষেপণ।

  • ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: কিম জং উনের এই কড়া বার্তার পর দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন বারবার আলোচনা বসার আহ্বান জানালেও কিম জং উন সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, ওয়াশিংটনের বৈরী নীতির কারণেই তারা আত্মরক্ষার্থে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের শেষে কিমের এই আক্রমণাত্মক ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা নিকট ভবিষ্যতে অত্যন্ত কম। বরং নতুন বছরে এশিয়ায় নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়ছে।

-এম. এইচ. মামুন