মিয়ানমারভিত্তিক স্ক্যামচক্র আরও চার বাই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

চীনা নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে বাই মাফিয়া গোষ্ঠীর ২১ সদস্যকে সাজা দিয়েছেন আদালত। ছবি: সিসিটিভির সৌজন্যে

মিয়ানমারে প্রতারণামূলক স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই কুখ্যাত মাফিয়া গোষ্ঠী ‘বাই’ পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

অভিযোগ রয়েছে, এই মাফিয়া চক্রটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার চীনা নাগরিককে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করেছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় বেইজিং। এর অংশ হিসেবে এর আগে বাই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। খবর বিবিসির।

চীনের ওয়াংডং প্রদেশের একটি আদালত প্রতারণা, হত্যা, গুরুতর জখমসহ একাধিক অপরাধে বাই পরিবারের ২১ সদস্য ও সহযোগীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া চারজনও এই দণ্ডপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। এর আগে আদালত বাই গোষ্ঠীর প্রধান বাই সুওচেংসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে অসুস্থতার কারণে সাজা কার্যকরের আগেই সুওচেং মারা যান।

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী শহর লাউককাইং-এ কয়েক বছর ধরে বাই, মিংসহ কয়েকটি পরিবার শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে। সেখানে তারা ক্যাসিনো, যৌনপল্লি এবং সাইবার প্রতারণা চক্র পরিচালনা করত। আটক হওয়ার পর বাই সুওচেং-এর ছেলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, এসব গোষ্ঠীর মধ্যে বাই পরিবারই ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বাই পরিবার নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনা করত এবং সাইবার প্রতারণা ও ক্যাসিনো কার্যক্রম চালাতে ৪১টি ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। এসব স্থানে নিয়মিত সহিংসতা, নির্যাতন ও মারধরের ঘটনা ঘটত।

চীনা আদালতের তথ্যমতে, এই গোষ্ঠীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অন্তত ছয়জন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন। একজন আত্মহত্যা করেছেন এবং আরও অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।

২০০০ দশকের শুরুতে লাউককাইং অঞ্চলের এক যুদ্ধবাজ নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক অভিযান চালানো হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মিন অং হ্লাইং। অভিযানের পর অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ বাই পরিবারের হাতে চলে যায়।

২০২৩ সালে এই মাফিয়া পরিবারগুলোর দখলদারির অবসান ঘটে। প্রতারণা চক্র দমনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় বেইজিং অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং পরোক্ষভাবে জাতিগত বিদ্রোহীদের তৎপরতাকে সমর্থন জানায়। এর ফলে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে চীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

-আফরিনা সুলতানা