হলিউডে আবারও শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমেছে। নিউ জার্সির এক বাসা থেকে উদ্ধার করা হল ‘দ্য লায়ন কিং’-খ্যাত অভিনেত্রী ইমানি দিয়া স্মিথের মৃতদেহ। ইমানি ২৫ বছর বয়সে জীবনের আলো নিভে গেলেন, তাঁর বাবা-মা, দুই ভাইবোন এবং মাত্র ৩ বছরের পুত্রসন্তান। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে, যা দেখে স্থানীয় পুলিশ এবং প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইমানিকে একাধিক বার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছিল। এই ঘটনায় তাঁর প্রেমিক জর্ডান ডি জ্যাকসনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে খুনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজতে ব্যস্ত, তবে এখনও স্পষ্ট কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি যে এটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আবেগপ্রবণ ঘটনায় ঘটেছে।
ইমানি দিয়া স্মিথ ছিলেন একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রী। তিনি ডিজনির বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দ্য লায়ন কিং’-এ ‘ইয়াং নালা’ চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। তার উজ্জ্বল চরিত্র, মিষ্টি হাসি এবং অভিনয় ক্ষমতা দর্শক ও সহকর্মীদের মনে অম্লান ছাপ রেখে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, ইমানি নিজের সন্তান, পরিবারের জন্যও দায়িত্বশীল ছিলেন।
অভিনেত্রীর কাকিমা সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে ইমানির মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন এবং ইমানির শেষকৃত্য ও ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার ভাইঝি ইমানি দিয়া স্মিথকে আমরা হারিয়েছি। অচেতন অবস্থায় ওকে ২১ ডিসেম্বর তার প্রেমিক হত্যা করেছে। ও মাত্র ২৫ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে গেছে। ওর ৩ বছরের পুত্রসন্তান, বাবা-মা এবং দুই ভাইবোন সবই শোকাহত।”
“ইমানি খুবই উজ্জ্বল এবং প্রতিভাবান একজন মানুষ ছিলেন। ডিজনির ‘দ্য লায়ন কিং’-এ ইয়াং নালা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। সারা বিশ্ব তার প্রতিভা ও ঔজ্জ্বল্য দেখেছে।” ইমানির পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব শোকাহত।
ইমানি দিয়া স্মিথের মৃত্যু কেবল একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীর জীবনকেই শেষ করেনি, বরং তার পরিবার, বন্ধু ও ভক্তদের মনেও গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। নিউ জার্সিতে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান। অপরাধী গ্রেফতার করা হলেও ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা বাকি। তবে ইমানির জীবন ও কাজ সবসময় মানুষের মনে অম্লান থাকবে। তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল তারকা, যিনি পর্দার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন।
এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী অনুরাগীরা শোক প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ইমানির জীবন ও প্রতিভার জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছে। প্রিয়জন, সহকর্মী ও ভক্তরা সবাই এই অকস্মাত মৃত্যুতে চরম শোকাহত। অভিনেত্রীর ছোট বাচ্চার ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং পোষ্যদের দেখাশোনার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শোক, হতাশা এবং অনুস্মরণ—এই তিনটি অনুভূতি এখন পুরো হলিউড এবং বিশ্বব্যাপী ইমানির ভক্তদের মধ্যে প্রবলভাবে বিরাজ করছে। তাঁর প্রয়াণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে জীবনের ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা কখনওই স্বয়ংক্রিয় নয়, এবং প্রতিভা সবসময় সংরক্ষিত থাকে না, যতটা আমরা আশা করি।
বিথী রানী মণ্ডল/










