গ্রামীণফোনের প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডঃ দেশের টেলিযোগাযোগ খাত অস্থিতিশীল ও ঝুঁকির মুখে

গ্রামীণফোনের প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত ক্রমাগত অস্থিতিশীল ও ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন এ খাাতের ব্যবসায়ী ও খাত সংশ্লিষ্টরা। যার জন্য এসএমপি নীতিমালা বাস্তবায়নে শিথিলতার অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

তাঁরা বলছেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের (এমএনও) ধারাবাহিক বিনিয়োগ সত্ত্বেও, প্রতিবছর গ্রাহকপ্রতি গড় আয় (এআরপিইউ) কমে যাচ্ছে । ২০০৯ সালে যে এআরপিইউ ছিলো ৩ মার্কিন ডলার, তা বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যহারে কমে গিয়ে বর্তমানে ১.৩ মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। কমতে থাকা এই এআরপিইউ এর সাথে যুক্ত হওয়া উচ্চ করের বোঝা, এই খাতের প্রবৃদ্ধিকে গতিহীন করছে। উচ্চ কর ও তীব্র প্রতিযোগিতা ছোট অপারেটরদের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে খাতটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ১১ শতাংশ হলেও, টেলিকম খাতের রাজস্ব ২০২০ সালের ৬.৩৯ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে ৪.৪০ শতাংশে এসে নেমেছে। গত পাঁচ বছরে এই খাতের রাজস্ব প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসএমপি অপারেটর গ্রামীণফোন বর্তমানে বাজার হিস্যার ৯০ শতাংশেরও (নেট প্রফিট আফটার ট্যাক্স) বেশি লাভ করছে। রাজস্ব বাজারের ৫০ শতাংশের মতো বাজার তাদের দখলে, এমনকি, শেয়ারযোগ্য অবকাঠামোর ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও তারা তা শেয়ার করতে অনাগ্রহী। এতে করে এই খাতে কেবল নতুন বিনিয়োগকারীরাই নিরুৎসাহিত হচ্ছে না, বরং, বাজারে থাকা পক্ষগুলোও নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে।

এসব পর্যালোচনা সম্প্রতি স্বয়ং বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী’র উপস্থিতিতেই তুলে ধরা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ২০১৮ সালে এসএমপি গাইডলাইন চালু করলেও এর গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো কার্যকরভাবে পর্যালোচনা বা বাস্তবায়ন করেনি। এসএমপি নীতিমালার ধারা ৭(১১)-তে বার্ষিক পর্যালোচনার নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। এমনকি, বর্তমানে এর বাস্তবায়ন এই খাতের ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলছে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক উদাহরণ রয়েছে যে, এসএমপি নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন বাজারের ন্যায্যতা ও গ্রাহকের সুবিধা নিশ্চিত করছে।

ভুক্তভোগী অপারেটরগুলো বারবার এসব বিষয়ে বিটিআরসির দৃষ্টি আকর্ষণসহ নানা অভিযোগ ও দাবি জানিয়ে আসছে। তারা বলছে, এসএমপি ঘোষিত অপারেটরটি যেভাবে বাজার দখলের জন্য দেশের টেলিটকম খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে তা এ খাতটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

২০২০ সালের জুনে এসএমপি বা একচেটিয়া অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনের উপর প্রথমে দুই বিধিনিষেধ কার্যকরের নোটিস দেয় বিটিআরসি। এতে এমএনপি লকিং পিরিয়ড কমিয়ে দেয়া এবং বর্তমানে চালু সকল সার্ভিস, প্যাকেজ, অফার নতুন করে অনুমোদন নেয়া ও নতুন কোনো প্যাকেজ বা সেবার ক্ষেত্রেও অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে।

একই মাসে পরে আরও একটি বিধিনিষেধ দেয়া হয়ে। যেখানে কল টার্মেনেটিং রেট কমিয়ে দেয়া হয়।

 

-এম. এইচ. মামুন