৬০০ বছর পর পৃথিবীতে ফিরছে ১২ ফুটের ‘মোয়া’: বিজ্ঞানীদের নতুন চমক

সিনেমা হলের পর্দায় স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’-এ আমরা দেখেছিলাম কৃত্রিমভাবে ডাইনোসর ফিরিয়ে আনার গল্প। এবার সেই কল্পকাহিনিকেই বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন একদল বিজ্ঞানী। নিউজিল্যান্ডের বনভূমি থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশালাকার পাখি ‘মোয়া’ (Moa)-কে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান ‘কলোসাল বায়োসায়েন্সেস’।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মোয়া ছিল নিউজিল্যান্ডের এক অনন্য উড়তে না পারা পাখি। প্রায় ১২ ফুট উচ্চতা এবং ৫০০ পাউন্ড ওজনের এই পাখিগুলো এক সময় দাপিয়ে বেড়াত নিউজিল্যান্ডের প্রকৃতি। কিন্তু প্রায় ৬০০ বছর আগে সেখানে মাওরি বসতি স্থাপনের পর অতিরিক্ত শিকারের ফলে বিশালকার এই প্রজাতিটি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
মোয়া পাখি ফিরিয়ে আনার এই রোমাঞ্চকর প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক স্যার পিটার জ্যাকসন। ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ খ্যাত এই পরিচালক কেবল উৎসাহীই নন, বরং এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী। তাঁর উদ্যোগেই নিউজিল্যান্ডের ‘নাই টাহু রিসার্চ সেন্টার’, মাওরি সম্প্রদায় এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবেরি সম্মিলিতভাবে এই প্রকল্পে কাজ করছে।
জটিল এক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কাজ মোটেও সহজ নয়। এর আগে প্রাগৈতিহাসিক নেকড়ে বা ‘ডায়ার উলফ’ ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছিল কলোসাল বায়োসায়েন্সেস। তবে নেকড়ের চেয়ে মোয়া ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি জটিল।
  • চ্যালেঞ্জ: মোয়ার নিকটতম জীবিত আত্মীয় ‘টিনামু’ পাখির সঙ্গে এদের বিবর্তনের দূরত্ব কয়েক কোটি বছরের।
  • পদ্ধতি: বিজ্ঞানীরা কোনো জীবিত পাখির ভ্রূণে জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত মোয়ার কোষ স্থাপন করবেন। তাত্ত্বিকভাবে, ওই পাখিটি যখন বড় হবে, তখন তার শরীরে মোয়ার ডিম ও শুক্রাণু তৈরি হতে পারে।
  • সারোগেট হিসেবে ইমু: বর্তমানে বিজ্ঞানীরা সারোগেট বা ধাত্রী পাখি হিসেবে ‘ইমু’ (Emu)-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইমু লম্বায় প্রায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চির মতো হয়।
প্রকল্পের বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো ডিমের আকার। মোয়া পাখির ডিম ছিল অনেক বড়, যা ইমু পাখির ডিমের তুলনায় বিশাল। ফলে ইমু পাখির ডিমে হাইব্রিড ভ্রূণটি সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও সংশয় রয়েছে।
যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তবে তা হবে বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভাবনীয় বিপ্লব। পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া একটি বিশালাকার জীব আবার আমাদের চোখের সামনে ঘুরে বেড়াবে—এমন স্বপ্নই এখন দেখছেন গবেষকরা।

 

-এম. এইচ. মামুন