সুন্দর চকচকে অফিসে বসেও কাজে অনীহা! নেপথ্যে এই কারণ গুলো।

প্রায় দিনই মন খারাপ করে অফিসে হাজির হন অনেকে। অফিস যেতে পছন্দ করেন এমন লোকের সংখ্যা যে হাতেগোনা, তা বলাই বাহুল্য। ঝাঁ চকচকে অফিসও আকর্ষণ করে না অনেককে। প্রায় প্রতিদিনই মুখ বেজার করে অফিসে হাজির হন সকলে। কাজের চাপ, সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়া, সহকর্মীদের সঙ্গে সমস্যা, ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত জীবনের চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমন বার্নআউট বা ডিপ্রেশন), যা কর্মীর আগ্রহ কমিয়ে দেয়; এর ফলে কাজের পরিবেশ ভালো হলেও কাজে মন বসে না, যা সমাধানের জন্য কারণগুলো চিহ্নিত করে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কেন অফিসে যাওয়া বা কাজের প্রতি অনিহা তৈরি হয়? যেমন, প্রতিদিন একই কাজ করতে করতে একঘেয়ে লাগতে পারে, যা কাজের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব ও চাপ সহ্য করতে না পেরে মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হওয়ার কারণে পরেরদিন আর অফিসে যাওয়ার ইচ্ছেটা কমে যায় । কঠোর পরিশ্রমের পরও স্বীকৃতি বা প্রমোশন না পেলে কাজের উৎসাহ কমে যায়। অফিসে অনেকের সাথে  বস বা সহকর্মীদের সম্পর্ক ভালো না থাকলে অফিসে আসতে ইচ্ছা করে না। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত জীবনে চাপ থাকলে তার প্রভাব কাজে উপর  পড়ে। ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির কারণেও কাজে অনীহা আসতে পারে। যদি কাজটি আপনার মনের মতো না হয় তবে কাজ করার আগ্রহ কম যায়। শরীর ও মন ঠিক না থাকলে কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন।

কর্মক্ষেত্রে বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়া একদম অস্বাভাবিক কিছু না। এই সমস্যা সমাধানের উপায় যে নেই তা কিন্তু নয়। কিছু নিয়ম অনুসরণ করে এটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। যেমন, কাজের রুটিন পরিবর্তন করে নতুন কিছু শেখা বা ভিন্ন দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করুন। সীমা নির্ধারণ করে অতিরিক্ত কাজের চাপ এড়াতে হবে সেজন্য  ‘না’ বলতে শিখুন। অফিসে বস বা এইচআর-এর সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে হবে। অফিসে অতিরিক্ত কাজ বা মানষিক সমস্যা হলে প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা থেরাপির সাহায্য নিতে হবে। মনকে ভালো রাখার জন্য মাঝে মাঝে পছন্দের কাজ বা শখ পূরণের জন্য সময় বের করুন। কতটুকু সময় মেসেজ দেখবেন, অফিসের ফোন ধরবেন তা ঠিক করে নিন নিজেই। বেতন বৃদ্ধি যদি ঠিক মতো না হয়, তা নিয়ে সরাসরি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। কাজের চাপে হবিগুলো ভুলবেন না। একইভাবে কেরিয়ারের উন্নতির জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যান। এই কারণগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে কর্মক্ষেত্রে আবার আগ্রহ ফিরে পাওয়া সম্ভব।

সানা