আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি সবার কাছে হিরো আলম নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এই ঘোষণার পর থেকেই তিনি একের পর এক হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
হিরো আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তি ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কখনও ফোনে, কখনও অনলাইনে প্রাণনাশের হুমকি আসছে। এতে শুধু তিনি নন, তার পরিবারের সদস্যরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, এই হুমকির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে এবং পরিবার নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন।
এই পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। ওই আবেদনে তার জন্য একজন ব্যক্তিগত গানম্যান বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবেও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেছেন হিরো আলম। তিনি জানান, গণঅধিকার পরিষদ, আমজনতার দল, বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি—এই চারটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব এলেও তিনি এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না। বিষয়টি নিয়ে তিনি সময় নিয়ে ভাবছেন এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
হিরো আলম বলেন, কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন সেটি বড় বিষয় নয়, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনগণের জন্য কাজ করা। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার সুবাদে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা তার কাছে উঠে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা ও বগুড়া—এই দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বগুড়া তার নিজ এলাকা হওয়ায় সেখানে তার একটি আলাদা ভিত্তি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় নির্বাচন করে জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে হিরো আলমের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। আগের নির্বাচনগুলোতেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তবে এবার সংগঠিতভাবে প্রচারণা, স্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাহসী অবস্থানের কারণে তার নাম আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিলে তার রাজনৈতিক যাত্রায় এটি একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে ঘিরে হিরো আলমের ঘোষণা যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনি তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও সামনে এনেছে নতুন প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো এই পরিস্থিতিতে কী ভূমিকা নেয় এবং হিরো আলম শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোন।
বিথী রানী মণ্ডল/










