যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া “বুদ্ধিমানের কাজ” হবে। ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও জোরদারের মধ্যেই সোমবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
চীন ও রাশিয়া সমর্থন প্রকাশ করেছে ভেনেজুয়েলার প্রতি, যখন দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ তেল ট্যাঙ্কার অবরোধের মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান পদক্ষেপগুলোর পরিণতিতে মাদুরোর ক্ষমতা হারানো একটি সম্ভাব্য ফল হতে পারে, তবে সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত তার নিজের।
ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, সম্ভবত সেটাই হবে… সে কী করতে চায়, সেটা তার ওপর নির্ভর করে। আমার মনে হয়, তার জন্য সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে আমরা দেখব কী হয়।”
মাদুরো যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কঠোর অবস্থান নেন, তাহলে পরিণতি গুরুতর হবে—এমন হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “সে যদি কিছু করতে চায়, যদি শক্ত হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটাই হবে তার জীবনের শেষবার শক্ত হওয়ার চেষ্টা।”
মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ প্রয়াসের মধ্যে রয়েছে অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং ভেনেজুয়েলার আশপাশের প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা। এসব অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে পেত্রোর সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেন, পেত্রো “যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নন” এবং তাকে “খুবই খারাপ লোক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন হয় এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ট্রাম্প এর আগে ভেনেজুয়েলায় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সব তেল ট্যাংকারের যাতায়াতে “অবরোধ” আরোপের ঘোষণা দেন। রোববার ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেল ট্যাংকারকে ধাওয়া করে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। সফল হলে এটি হবে গত দুই সপ্তাহে তৃতীয় এবং ওই সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় এমন অভিযান।
জব্দ করা তেলের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তা বিক্রি করতে পারে কিংবা নিজের কাছেই রাখতে পারে। “হয়তো আমরা এটি বিক্রি করব, হয়তো রেখে দেব,” বলেন ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি মজুদ পূরণেও ব্যবহার করা হতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সরাসরি জবাব না দিলেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেন, প্রতিটি দেশের নেতার উচিত নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। গত মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে মাদুরো বলেন, “আমি যদি আবার তার সঙ্গে কথা বলি, আমি তাকে বলব—প্রত্যেক দেশের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিজেরাই দেখা।”
সূত্র: রয়টার্স
মানসুরা মানজিল চৈতী/










