নির্বাচন নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে – তারেক রহমান

বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তপ্ত। একদিকে নির্বাচন ঘিরে নানা ‘ষড়যন্ত্রের’ গুঞ্জন, অন্যদিকে সংসদের লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই দলটি তাদের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেবে বিএনপি। এ কার্যক্রম দু-এক দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, প্রতিটি আসনে এবার একজন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য চিঠি দেওয়া হবে। দলীয় চিঠিতে স্বাক্ষর করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় কিছুটা দেরি হতে পারে। প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয়ে দলীয় এ চিঠি জমা দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পাবেন। উল্লেখ্য, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৩টিতে সম্ভাব্য মনোনয়ন দিয়েছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঘোষিত কয়েকটি আসনে ‘বিতর্কিত প্রার্থী’ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। তৃতীয় দিনের মতো গতকাল দিনব্যাপী রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগের ৯০ জন প্রার্থীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। সভার শেষ দিকে সন্ধ্যায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সভা সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্রীড়া, খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়ন, নদী-খাল-বিল ও পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি এই আট দফা কীভাবে বাস্তবায়ন করবে তা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মতবিনিময় সভা হলেও মূলত এটি কর্মশালায় পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে প্রচার চালাতে হবে তার নানা দিক তুলে ধরে পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্বাচনি এলাকার কেন্দ্র ও আসনভিত্তিক ভোটার লিস্ট প্রার্থীরা কীভাবে ভোটারদের কাছে পাঠাবেন বা প্রচার চালাবেন- সেসব বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ভোটারদের কাছে ভালোভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম পূরণ, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলা এবং সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্রের টাকা জমা নিয়েছে বিএনপি।

মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নির্বাচনকে প্রলম্বিত করা বা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেউ কেউ। বিভিন্ন মহল থেকে শুরু হওয়া এই ষড়যন্ত্র একমাত্র বিএনপিই রুখতে পারে। আপনারা নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে ঘরে ঘরে প্রচার-প্রচারণা চালান। মানুষের পাশে দাঁড়ান। আট দফা ও ৩১ দফা জনগণের মধ্যে বিশদ আকারে তুলে ধরুন। এবার ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। না হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, এটা মতবিনিয়ম সভা নয়, এটা অনেকটা ট্রেনিংয়ের মতো। নির্বাচনি প্রচারের আট দফার ওপর বিশেষজ্ঞরা কথা বলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে ব্যবহার করব, কীভাবে ভোট চাইব, কীভাবে প্রচারণা চালাব তার ওপর একটা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন ফরম পূরণের বিষয়গুলো শেখানো হয়েছে।

সিলেট-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল মালিক বলেন, নির্বাচনি আইন মেনে চলে সরকারকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মানুষের কাছে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মামুন/